
সোমবারই প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সঙ্গে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানা গিয়েছে। ফের মকরসংক্রান্তির পরই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই হল শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস। আগামী ১৬ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee নিজে উপস্থিত থেকে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করবেন।
উত্তরবঙ্গের Mamata Banerjee মানুষের কাছে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়িতে একটি বড় মন্দির নির্মাণের দাবি উঠছিল। সেই দাবি পূরণে উদ্যোগী হয়ে রাজ্য সরকার মহাকাল মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এবার সেই ঘোষণার বাস্তবায়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে চলেছে শিলান্যাস অনুষ্ঠান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুষ্ঠান ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছিল। জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের মাধ্যমে দিঘাকে নতুন করে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এরপর বছরের শেষ লগ্নে, নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের লক্ষ্য হল বাংলার দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতিকে একটি স্থায়ী মঞ্চে তুলে ধরা। গত ২৯ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, জানুয়ারিতেই শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মহলে আগ্রহ তৈরি হয়।
মহাকাল মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার ধর্মীয় পর্যটন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। উত্তরবঙ্গ এমনিতেই পর্যটনে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্সের পাশাপাশি শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র গড়ে উঠলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে বলেই আশা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।










