Home West Bengal North Bengal শিলিগুড়ির পর মালদাতে হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত

শিলিগুড়ির পর মালদাতে হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত

মালদা: শিলিগুড়ির পর এবার মালদাতেও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোটেলের দরজা (Malda hotels) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন হোটেল মালিকরা। সীমান্তবর্তী এই জেলায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সতর্কতার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আপাতত কোনও বাংলাদেশি নাগরিককে রাত্রিবাসের জন্য ঘর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। যদিও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে আসা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Advertisements

গত কয়েক মাস ধরেই অশান্ত ও অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হিংসা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে উদ্বেগ বেড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ইন্দো-বাংলা সীমান্তে আগেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মালদা জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে। মহদিপুর, বৈষ্ণবনগর, হাবিবপুর ও গাজোল ব্লকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে।

   

সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতির ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আগমনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ জনে। কেন্দ্র সরকারের তরফে নতুন করে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া কার্যত বন্ধ থাকায় এই প্রবেশ আরও কমেছে। যাঁদের ভিসার মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি অথবা যাঁরা আগেই অনুমোদন পেয়েছেন, তাঁরাই বর্তমানে সীমিত সংখ্যায় ভারতে আসছেন।

মালদা জেলা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় বর্তমানে স্বীকৃত হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৯৪টি। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় মিলিয়ে দেড়শোরও বেশি হোটেল, লজ ও ধাবা রয়েছে যেখানে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা থাকে। সংগঠনের সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে হোটেল মালিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, বাংলাদেশিদের জন্য যখন সরকারি স্তরেই ভিসা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, তখন হোটেল ব্যবসায়ীদের পক্ষেও তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে মালদার কোনও হোটেলেই কোনও বাংলাদেশি অতিথি নেই। তবে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের বিষয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই সংগঠনের বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

হোটেল মালিকদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে জেলার বণিক সমাজের একাংশও। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগমনে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের একটা বড় অংশ নির্ভর করত। তবে বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী মনোভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন তাঁরা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতেও একই ধরনের পরিস্থিতিতে মালদার হোটেল মালিকরা বাংলাদেশিদের জন্য ঘর দেওয়া বন্ধ করেছিলেন। এবারও প্রশাসনিক সতর্কতা ও জেলার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisements