
কোচবিহারে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভায় রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । তার বক্তৃতার মূল আক্রমণের শিকার ছিল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। সভায় উপস্থিত জনতার সামনে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকায় থাকা ১০ জন ‘মৃত’ ভোটারের বিষয়টি সামনে এনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন একযোগে রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে। নির্বাচনের খসড়া তালিকায় যে ১০ জন ‘মৃত’ ভোটারের নাম উঠেছে, তাদেরকে মঞ্চে তুলে আনা হয়েছে, যাতে কমিশন এবং বিজেপি তাদের কার্যকলাপের আসল চেহারা প্রকাশ করতে পারে।” তিনি আরো জানান, এসব মৃত ভোটারদের তালিকা যেন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক ধরনের ‘গড়িমসি’ চালানো হচ্ছে, যাতে ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।
অভিষেক(Abhishek Banerjee) স্পষ্টভাবে বলেন, “কমিশন যদি সত্যিই স্বচ্ছভাবে কাজ করতো, তাহলে এই ধরনের ভুল তালিকা প্রকাশিত হতো না। তবে আমরা জানি, এটি একটি প্রক্রিয়া, যা নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তি তৈরি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।” এরপর তিনি মৃত ভোটারদের মঞ্চে তুলে ধরে বলেন, “এরা তো ভোট দিতে পারবে না, তাহলে তাদের নাম কেন খসড়া তালিকায় রাখা হচ্ছে?” বিজেপি সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, “বিজেপি শুধু ধ্বংসাত্মক কাজ করতে জানে, তাদের কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নেই।” তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিজেপি হল এক ধরনের ‘জঞ্জাল’, যারা মানুষের জন্য কিছু করেনি, বরং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছে।” অভিষেকের দাবি, বিজেপির কাছে হিন্দুত্বের কোনো সঠিক ধারণা নেই এবং তাদের কাছ থেকে তিনি কখনো হিন্দুত্ব শিখবেন না।
তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, “বিজেপি শুধু দাঙ্গা এবং সহিংসতা সৃষ্টি করে, আমাদের রাজ্যে তার কোনো স্থান নেই।” তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিজেপি দেশের রাজনীতি এবং সমাজের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি করছে, তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee) বিজেপির হিন্দুত্বের ধারণাকে একযোগভাবে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, “বিজেপির হিন্দুত্ব তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করার এক মাত্র উপায়। আমি কখনোই তাদের কাছ থেকে হিন্দুত্ব শিখব না। হিন্দুত্বের প্রকৃত মানে হলো মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা, এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “যারা ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে, তারা আসলে হিন্দুত্বের সঠিক ধারণা থেকে অনেক দূরে। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস বিশ্বাস করি, হিন্দুত্বের আসল মানে মানুষের সেবা করা।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কমিশন যদি জনগণের আস্থা ফিরে পেতে চায়, তবে তাদের উচিত সঠিকভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করা, এবং যাতে কোনো ভুল তালিকা প্রকাশ না হয়। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ থাকতে হবে, যাতে জনগণের বিশ্বাস অব্যাহত থাকে।” তিনি আরও বলেন, “ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার মতো কোনো পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করলে তা সরকারের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।”
কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন যথেষ্ট শক্তিশালী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতায় উপস্থিত জনতা উত্তেজিত ছিল এবং তার মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানায়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে সবসময়ই অভিযোগ করা হয় যে, বিজেপি রাজ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য বিজেপির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যা গণতন্ত্র ও জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।










