কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলার রাজনীতির ময়দানে বড় চাল চাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও তৃণমূল সরকারের চালু করা কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। শাহের এই মন্তব্য মূলত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনপ্রিয় প্রকল্পগুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করার একটি কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অমিত শাহের আশ্বাস ও তৃণমূলের প্রতি তোপ
কলকাতায় আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের বর্তমান প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যাবে, এই মর্মে তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের মধ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে শাহ বলেন, “আমি স্পষ্ট করে দিচ্ছি, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরি হওয়ার পরেও বর্তমান সরকারের একটি প্রকল্পও বন্ধ হবে না। বরং আমাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে আমরা যে সমস্ত নতুন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেব, তা-ও বাস্তবায়িত করা হবে। সারা দেশে আমাদের ট্র্যাক রেকর্ডই এর প্রমাণ।” তাঁর দাবি, বিজেপি কেবল পুরনো প্রকল্প বজায় রাখবে না, বরং সেগুলিকে আরও শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত করবে।
বঞ্চনা ও বকেয়া ইস্যুতে তৃণমূলের পালটা আক্রমণ no projects will be stopped says Amit Shah
অমিত শাহের এই দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই আশ্বাসকে ‘ভাওতাবাজি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেন বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির টাকা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “জিএসটি-র মাধ্যমে মানুষের করের টাকা কেন্দ্র নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রাপ্য টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এটা কি বিজেপির পৈতৃক সম্পত্তি? হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও গরিব মানুষের পেটে লাথি মারার মানসিকতা নিয়ে বিজেপি ভোট চাইছে।”
সংবিধান ও ২০২৬-এর লড়াই
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এমন একটি দল যারা দেশের সংবিধান বা বিচারব্যবস্থার তোয়াক্কা করে না। জয়প্রকাশ মজুমদার আরও দাবি করেন, বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। অমিত শাহের ‘গ্যারান্টি’কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার কাছে বিজেপি খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। হারের পর ওদের স্রেফ বাড়ি ফিরে যেতে হবে।”
সব মিলিয়ে, অমিত শাহের ‘প্রকল্প বন্ধ না করার’ প্রতিশ্রুতি এবং তৃণমূলের ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ, এই দুই মেরুকরণেই এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া। ২০২৬-এর লড়াই যে মূলত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আর কেন্দ্রীয় বকেয়া আদায়ের ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, শাহের এই সফর তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।
