
রাজ্যজুড়ে যখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নিউটাউনের ঘুনি বস্তিকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনীতি। বুধবার সন্ধ্যায় ইকো পার্ক সংলগ্ন ওই বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ বিজেপি
বিজেপির তরফে এই অগ্নিকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর যেসব নাম বাদ পড়েছে, সেই তথ্য আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির পথ পরিষ্কার করতেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল নিউটাউনের ঘুনি বস্তি সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর সংক্রান্ত বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ওই বস্তিতে বসবাসকারী বহু মানুষ অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে এসে রয়েছেন। এই আবহে বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে দাহ্য ঝুপড়ি New Town Ghuni Basti fire voter list
বুধবার শীতের সন্ধ্যায় হঠাৎই বস্তির একাংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দাহ্য ঝুপড়িগুলি গ্রাস করে নেয় আগুন, পুড়ে ছাই হয়ে যায় শতাধিক ঘর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার আগেই এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্কে বহু বাসিন্দা এলাকা ছাড়ছিলেন। সেই সময়েই এই বিপর্যয় নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত চক্রান্ত—কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপলের মতো দাহ্য সামগ্রীর আধিক্যের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন নেভাতে বেগ
দমকল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বস্তির ভেতরে ঢোকার রাস্তা অত্যন্ত সরু ও ঘিঞ্জি হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজে প্রথমদিকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। পরে একাধিক ইঞ্জিনের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্য রাজনীতি যখন ইতিমধ্যেই উত্তাল, তখন ঘুনি বস্তির এই অগ্নিকাণ্ড সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।










