রাজনৈতিক মতভেদ চরমে থাকলেও, ভিনদেশের মাটি থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এবার কড়া অবস্থান নিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ (ISF) নেতা নওসাদ সিদ্দিকী। বাংলাদেশের এক ইসলামি বক্তার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ, উভয় সরকারকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানালেন তিনি।
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, অপমান সইব না”
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের ইসলামি বক্তা আলেম রফিকউল্লাহ আনসারীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি কলকাতা২৪x৭), যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। এর প্রতিবাদে এক সভায় নওসাদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের ফারাক আছে এবং থাকবে। কারণ তিনি দুর্নীতগ্রস্তদের প্রশ্রয় দেন আর আমরা চোরমুক্ত সমাজ চাই। কিন্তু দিনশেষে তিনি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে নিয়ে ওপার বাংলার কেউ বাজে কথা বললে আমি ভারতবর্ষ থেকে তাঁকে ধিক্কার জানাচ্ছি।”
নওসাদ আরও দাবি করেন, ভারত সরকারের উচিত অবিলম্বে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কথা বলে ওই বক্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
উত্তপ্ত বাংলাদেশ: দীপু দাসের পর প্রাণ গেল অমৃত মণ্ডলের
ওপার বাংলায় অরাজকতা যেন থামছেই না। ছাত্রনেতা ওসমান হাদি খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই হিন্দু যুবকদের ওপর একের পর এক হামলার খবর প্রকাশ্যে আসছে। সম্প্রতি দীপু দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুনের পর তাঁর নগ্ন দেহ গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার নারকীয় অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, দীপুর সাফল্য ও প্রভাবই তাঁর কাল হয়েছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রাণ গেল অমৃত মণ্ডল নামে আরেক হিন্দু যুবকের।
সূত্রের খবর, গত বুধবার তোলাবাজির অভিযোগে একদল দুষ্কৃতী অমৃত মণ্ডলের ওপর চড়াও হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইতিপূর্বেই কড়া নিন্দা জানিয়েছে। ওপার বাংলায় হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলেও দাবি উঠছে। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই নৃশংসতার প্রতিবাদে পথে নেমেছে। সব মিলিয়ে সীমান্ত পারের অস্থিরতা এখন ভারতের রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
