সিঙ্গুরে BJP সভার আগেই মোদি-টাটা সম্পর্ক নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ তৃণমূল সাংসদ

সিঙ্গুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর এই সফর যে নিছক প্রশাসনিক নয়। বরং রাজনৈতিক বার্তাবাহী, বলাই বাহুল্য। এই সফরের প্রাক্কালেই…

narendra-modi-bjp-tmc-singur-mamata-banerjee-tmc-vs-bjp-west-bengal

সিঙ্গুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর এই সফর যে নিছক প্রশাসনিক নয়। বরং রাজনৈতিক বার্তাবাহী, বলাই বাহুল্য। এই সফরের প্রাক্কালেই বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাকেত গোখলে। সমাজমাধ্যম পোস্টে তিনি তুলে ধরলেন মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য।

Advertisements

মোদীর হাত ধরে উদ্বোধন হল বন্দে ভারত স্লিপার

   

সাকেত গোখলের বক্তব্য, “গুরুত্বপূর্ণ হল দিদি এবং মোদির মধ্যে প্রকৃত ফারাকটা বোঝা।” সিঙ্গুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে আবারও পুরনো গল্পই শোনাবেন, কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাটা ন্যানো প্রকল্পের জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন এবং তার ফলেই ন্যানো প্রকল্প গুজরাটে চলে যায়’।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোদি সরকার গুজরাট ও অসমে টাটার দুটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট স্থাপনের অনুমোদন দেয়। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ৪৪,২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যেই টাটা গোষ্ঠী লোকসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপিকে প্রায় ৭৫৮ কোটি টাকা অনুদান দেয়। সাকেত বলেন, “এভাবেই মোদি কাজ করেন। আগে কর্পোরেটকে জনগণের টাকা দিয়ে ভর্তুকি, তারপর সেই কর্পোরেট থেকেই দলের নির্বাচনী তহবিলে বিপুল অঙ্কের অর্থ।”

এই প্রেক্ষাপটে সাকেত গোখলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ২০০৬ সালে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৬ দিনের অনশন করেছিলেন। তখন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য বা দেশের ক্ষমতাশালী দল ছিল না। সেই আন্দোলনের পেছনে কোনও কর্পোরেট-বিরোধিতা নয়, ছিল কৃষক ও দরিদ্র মানুষের অধিকার রক্ষার দৃঢ় বিশ্বাস। এমনটাই দাবি করেন সাকেত।

তিনি আরও বলেন, অনশন ভাঙার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাটাদের সঙ্গে কোনও গোপন ‘ডিল’ করেননি। দলের তহবিল বাড়ানোর জন্য তিনি কখনও বাংলার মানুষের স্বার্থকে বলি দেননি। মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি অনাহারে থেকেছেন, আপস করেননি।

সাকেত গোখলের জানান, এখানেই মোদি-শাহের রাজনীতির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল পার্থক্য। তিনি লিখেছেন, “দিদি বাংলার জন্য বাঁচেন, বাংলার জন্য লড়াই করেন। আর মোদি-শাহের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নির্বাচন জেতা। দিদি মানুষের জন্য ২৬ দিন অনশন করেছেন, আর মোদি-শাহ বারবার ক্ষমতা ও অর্থের স্বার্থে মানুষ ও দেশকে বিক্রি করে দিতে পিছপা হননি।”

সিঙ্গুর সফরের আগে এই তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। এখন দেখার, সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এই অভিযোগের কী জবাব দেন।

Advertisements