নন্দীগ্রাম: দেড় দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের সেই রক্তাক্ত জমি আন্দোলনের স্মৃতি উস্কে ‘গণহত্যা’ মামলায় নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের গোকুলনগর এলাকা থেকে ইন্দু দাস নামে এক বৃদ্ধাকে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে পূর্ব মেদিনীপুরে।
পুরনো মামলার নতুন মোড়
সিবিআই সূত্রে খবর, গারুপাড়ার বাসিন্দা ইন্দু দাস ২০০৭ সালের ঘটনার তদন্তে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় নজরদারিতে ছিলেন। যদিও তৃণমূল শিবিরের দাবি, ইন্দু দাস ওই মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন। একদা সিপিএমের কট্টর কর্মী হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে তিনি বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলেই দাবি করেছে স্থানীয় ঘাসফুল শিবির। দীর্ঘ ১৮ বছর পর কেন আচমকা এক বৃদ্ধাকে লোহার গরাদের পিছনে যেতে হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
শাসকদলের তোপ ও সিবিআই-তৎপরতা Nandigram 2007 case CBI arrest
এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে এদিন সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সিবিআই-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, “ইন্দু দাস এই মামলার সাক্ষী ছিলেন। যারা ঘটনার প্রকৃত কারিগর এবং মূল অভিযুক্ত, তারা প্রকাশ্যেই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ তাঁরা বর্তমানে বিজেপি করার সুবাদে সিবিআই তাঁদের ছুঁতে পারছে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক মতাদর্শ দূরে সরিয়ে মানবিক কারণে ইন্দু দাসের পরিবারের পাশেই থাকবে এবং তাঁদের আইনি সহায়তা দেবে।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত বহু মানুষ আজও বিচারপ্রার্থী। এই আবহে ১৮ বছর পর এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে বহু পরিবার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই গ্রেপ্তারি হয়তো নন্দীগ্রাম মামলার এক দীর্ঘস্থায়ী তদন্ত প্রক্রিয়ার নতুন সূত্রপাত হতে পারে। যদিও এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সাফাই পাওয়া যায়নি।
