বড়দিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM MODI) নিজের এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি শুভেচ্ছাপূবার্তা পোস্ট করেন। সেই পোস্টে দিল্লির একটি ক্যাথিড্রাল চার্চে যাওয়ার ছবি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি বড়দিন উপলক্ষে সকালে বিশেষ প্রার্থনা সভা বা সার্ভিসে যোগ দিয়েছেন। মোদী লেখেন, এই বিশেষ সার্ভিস ভালোবাসা, সম্প্রীতি এবং শান্তির বার্তা বহন করে। তাঁর বক্তব্যে বড়দিনের উৎসবের মূল ভাবনা—ভালোবাসা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের কথাই তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে দেখেন। তবে এই শুভেচ্ছাবার্তাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রীর ওই পোস্ট রিপোস্ট করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক কটাক্ষের সুর ধরা পড়ে। ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রধানমন্ত্রীর পোস্টটি শেয়ার করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। তৃণমূল সাংসদের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ডেরেকের এই মন্তব্যকে অনেকেই ‘বড়দিনের শুভেচ্ছা ঘিরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর বড়দিনের পোস্টে যেখানে শান্তি ও ভালোবাসার বার্তা ছিল, সেখানে ডেরেক ও’ব্রায়েনের প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ। বিরোধীদের মতে, একদিকে উৎসবের শুভেচ্ছা জানানো হলেও অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্বেগ নিয়ে সরকার নীরব থাকে—এই দ্বৈত অবস্থানকেই কটাক্ষ করা হয়েছে। যদিও ডেরেক নিজে সরাসরি এমন কোনও ব্যাখ্যা দেননি, তবে তাঁর মন্তব্যের ভাষা ও ভঙ্গি থেকেই সেই ইঙ্গিত পেয়েছেন অনেকে। এই ঘটনায় ফের একবার স্পষ্ট হয়েছে যে, উৎসবের দিনেও রাজনীতির উত্তাপ থেমে থাকে না। বড়দিনের মতো ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী ও ডেরেকের এই পোস্ট-রিপোস্টকে ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ডেরেকের কটাক্ষকে সমর্থন করছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া লড়াই এখন নতুন কিছু নয়। উৎসব, জাতীয় দিবস কিংবা কোনও বিশেষ উপলক্ষ—সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করছে। বড়দিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদীর চার্চে যাওয়া এবং তা প্রকাশ্যে তুলে ধরা যেমন একটি বার্তা দেয়, তেমনই বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া সেই বার্তাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি করে।
