নদিয়ার কৃষ্ণনগরে বৃহস্পতিবারের জনসভা যেন কার্যত পরিণত হয়েছিল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জবাবি মঞ্চে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান বিজেপিকে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতির অভিযোগকে সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করেন, দেশজুড়ে যেন এক ধরনের ‘নিরামিষ সাম্রাজ্যবাদ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বাঙালির বহুবর্ণ খাদ্যসংস্কৃতিতে ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন তিনি।
মমতার বক্তব্য, “এই বাংলার মাটিতে খাদ্যাভ্যাসকে ধর্মের চশমা দিয়ে দেখতে শেখানো যাবে না। বাঙালি মাছ–মাংস খাবে না, শুধুই নিরামিষ খাবে—এমন চাপিয়ে দেওয়া মানসিকতা আমরা কখনও মেনে নেব না।” তাঁর দাবি, বিজেপি সাংগঠনিকভাবে মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, যা সাংবিধানিক স্বাধীনতারও লঙ্ঘন।
বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি বরাবরই বহুত্ববাদী—এ কথাই বারবার তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তি স্বাধীনতার জায়গা, যা নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা একধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। তাঁর কথায়, *“এ রাজ্যে কে কী খাবে, তা মানুষ নিজেই ঠিক করবে। বিজেপি এসে বলবে—এটা খাবে না, ওটা খাবে না—এই গোচের রাজনীতি আমরা মানব না।” খাদ্যাভ্যাস-নির্ভর ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য তিনি আগেও দিয়েছেন। তবে কৃষ্ণনগরের মঞ্চে তা আরও স্পষ্ট করে বলেন, কারণ সাম্প্রতিক চিকেন প্যাটিস-কাণ্ডকেও কেন্দ্র করে রাজনীতি তুঙ্গে উঠেছে।
চিকেন প্যাটিস বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠে এসেছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ানোর প্রক্রিয়ার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকেই তিনি জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে। মমতার হুঁশিয়ারি, “আইনের নামে কেউ দাঙ্গা বাধাতে চাইলে বা মানুষের খাবার নিয়ে হেনস্তা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অপরাধ করেছে, তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। যদিও সভার বড় অংশজুড়ে ছিল খাদ্যাভ্যাস বিতর্ক ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগার বিষয়টি, তবু মমতা রাজ্যের উন্নয়নমূলক দিকগুলোও তুলে ধরেন। নদিয়া জেলার একাধিক প্রকল্প, নারী উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি সুবিধা—সবকিছুই তিনি পর্যালোচনা করেন সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে।
