পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আবারও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। তিনি SIR কর্তৃপক্ষের ওপর অভিযোগ তুলে বলেন, রাজ্যে সাধারণ মানুষের মৃত্যু কোনো ন্যায্যতার ভিত্তিতে হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, “SIR-এ ৫৭ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার নয়।” মমতা আরও বলেন, “এদের আত্মত্যাগের মূল্য দেওয়া উচিত, এবং রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের স্মৃতিতে জেলায় জেলায় শহিদ বেদি তৈরি হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীMamata Banerjee আরও বলেন, “এই ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল সাধারণ মানুষ, যারা জীবিকার জন্য SIR-এর কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিয়েছিল। তাদের অকাল মৃত্যু রাজ্যের জনগণের জন্য একটি বড় দুঃখজনক ঘটনা, এবং এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্ত বসে থাকব না।” তিনি আরও জানান, “এরা শহীদ। রাজ্য সরকার তাদের স্মৃতি চিরকাল ধরে রাখবে। তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই ধরনের মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এবং এটি সরকারের ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত। তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের মধ্যে পর্যাপ্ত সমন্বয়ের অভাব এবং SIR-এ ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার ফলেই এই মৃত্যু ঘটেছে। “যারা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য সেখানকার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিল, তাদের প্রতি ন্যায়বিচারের অবস্থা অত্যন্ত নিকৃষ্ট,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ওই ৫৭ জন শহীদের নাম ধরে সম্মান জানাবো। তাদের মৃত্যুর পেছনে কী কারণ, তা জানার জন্য আমরা সমগ্র ঘটনার সঠিক তদন্ত করব। যারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, তাদের শাস্তি অবশ্যই হবে।” তিনি জানান, রাজ্য সরকার এই ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন করতে এবং মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যথাসাধ্য সহায়তা করবে।
এছাড়াও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের অন্যান্য জেলার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা এই ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। “প্রতিটি জেলা সরকারের অধীনে শহিদ বেদি নির্মাণ করা হবে, যাতে শহীদের স্মৃতিতে সন্মান ও মর্যাদা প্রদর্শিত হয়,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, শহিদ বেদি তৈরির মাধ্যমে ওই ৫৭ জন সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগকে সম্মানিত করা হবে এবং তা ভবিষ্যতে সব মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “কেন্দ্রের যদি এত এত কথা থাকে, তবে কেন সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? কেন আমাদের সাধারণ মানুষের জীবন এত সস্তা হয়ে যাচ্ছে?” তিনি দাবি করেন, “রাজ্য সরকার দায়বদ্ধ, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা আমাদের হতাশ করে। ৫৭ জন শহীদ হওয়া, ৫৭টি জীবন অকালে ঝরে যাওয়া, তার পরও যদি সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?”
এছাড়া, তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের ঘটনা কখনোই কোনো সরকারকে দুঃখিত বা হালকা হতে দেবে না। রাজ্য সরকার তাদের সর্বোচ্চ প্রয়াসে মৃতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে এবং এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হবে।” তিনি আরও জানান, “বাঙালি মানুষ কখনোই ভুলে যায় না তাদের শহীদদের, তাদের ত্যাগ ও আত্মদানকেও সসম্মানে স্মরণ করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতার এই বক্তব্য রাজ্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক অব্যবস্থা এবং পরিকল্পনার অভাবের ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি একাধিক প্রশ্ন তুলেছে, তবে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা চলছে। রাজ্য রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়টি শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের প্রতি জনমানসে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
