“নেতাজি বেঁচে থাকলে SIR…” কেন্দ্রকে তোপ মমতার

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল বাংলায়। শুক্রবার কলকাতার রেড রোডে নেতাজির স্মরণে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের…

mamata-banerjee-sir-controversy-netaji-subhas-chandra-bose-birthday

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল বাংলায়। শুক্রবার কলকাতার রেড রোডে নেতাজির স্মরণে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। SIR (Special Intensive Revision) ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলেন এবং মানবিকতার প্রশ্নে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন।

Advertisements

নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে দেওয়া ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ইতিহাসের মহানায়ক সুভাষচন্দ্র বসু আজ বেঁচে থাকলে তাকেও কি SIR শুনানিতে ডাকা হতো? তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “আজ নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি হিয়ারিংয়ে ডাকা হতো? লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বলে কি তাঁকেও ডাকা হতো?”

   

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার বহু বিশিষ্ট মানুষ অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরের মানুষকে SIR শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষকে ডাকা হয়েছে।

SIR প্রক্রিয়ার জেরে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার কারণে ১১০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিদিন তিন-চার জন করে মানুষ ভয়ে আত্মহত্যা করছেন বা মারা যাচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “এত কিছুর পরেও কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হবে না? হাসপাতালে এখনও ৪০ জন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তাঁদের জীবন কি জীবন নয়? এর দায় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্র সরকারকেই নিতে হবে।”

মঞ্চ থেকে নেতাজির সেই ঐতিহাসিক উক্তি, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের প্রেক্ষাপটে তাঁর আবেদন, “প্রাণটাকে বাঁচান।” তিনি ছাত্রছাত্রী, খেলোয়াড়, শিল্পী-সহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ভাষণের একাধিক অংশে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভারতবর্ষের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে। বাংলা ভাষাকে অপমান করা হচ্ছে।” দিল্লির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।

নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণার দাবিও এ দিন ফের তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “আজও নেতাজির জন্মদিন জাতীয় ছুটির দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।” নেতাজির জন্মজয়ন্তীর মতো ঐতিহাসিক দিনে দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাষণ স্পষ্ট করে দিল SIR ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হতে চলেছে। আর তার সঙ্গে জুড়ে রইল ইতিহাস, ভাষা ও মানবিকতার প্রশ্ন।

Advertisements