পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এক রাজনৈতিক সভায় ফের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, অমিত শাহ ও তাঁর দল সারা ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একপাক্ষিক দৃষ্টিকোণ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে, বাংলাকেMamata Banerjee একমাত্র অনুপ্রবেশকারীদের প্রভাবিত রাজ্য হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য মমতা শাহকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বাংলাতেই শুধু অনুপ্রবেশকারী, কিন্তু কাশ্মীরে কোনও অনুপ্রবেশকারী নেই, এমন কীভাবে সম্ভব?”
এখানেই থেমে না থেকে মমতা Mamata Banerjee আরও প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি পহেলগামে আক্রমণের ঘটনা আপনারাই ঘটিয়েছেন? দিল্লিতে এত বড় বিস্ফোরণ কীভাবে হলো?” মুখ্যমন্ত্রী মমতার অভিযোগ, কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ, এবং অমিত শাহ ও তাঁর দল শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের দিকে আঙুল তুলতে ব্যস্ত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বাংলা ভদ্র বলে তালকুটিরে লুকিয়ে আছেন, অথচ আমরা সত্ত্বেও আতিথেয়তা দিয়ে যাচ্ছি।” তাঁর মতে, দেশের মধ্যে যখন বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় বিপর্যয় ঘটছে, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা শুধুমাত্র রাজনীতি করতে ব্যস্ত, জনগণের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না।
মমতা বলেন, “আপনারা এত কথা বলছেন বাংলা নিয়ে, কিন্তু দিল্লিতে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে, কেন সে বিষয়ে কথা বলেন না?” তিনি আরও বলেন, “পহেলগামে কেন এত আক্রমণ চলছে, যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে, তা নিয়ে কেন আপনারা চুপ?” মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “রাজ্যে যখন কোনো সমস্যা হয়, তখন আপনারা পশ্চিমবঙ্গকে দায়ী করেন। কিন্তু অন্য রাজ্যে কোনো সমস্যা হলে, সেখানে আপনারা কিছু বলেন না।”
এছাড়াও, তিনি দিল্লি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “দিল্লিতে এত বড় বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটে? ৫৮-৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ৫৪ লক্ষের নাম বাদ পড়ে কেন? কেন সেই বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো সঠিক তদন্ত বা পদক্ষেপ নেয়নি?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “কেন্দ্রীয় সরকার শুধুমাত্র নিজেদের পকেট ভরার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের জন্য তারা কিছুই করছে না। আপনার ছেলে খাবে, আপনি খাবে, আর আমরা এই সমস্যার সমাধান করবে?”
এছাড়া, মমতা অভিযোগ করেন, “বাংলা ভদ্র, শান্তিপূর্ণ রাজ্য হলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের চোখে এটা একমাত্র রাজ্য যেখানে অনুপ্রবেশকারীদের সমস্যা আছে। অন্য রাজ্যগুলোর জন্য কেন কোনো দায়বদ্ধতা দেখানো হচ্ছে না?” তাঁর ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে দেশের অন্যত্র গিয়ে নিজের জীবিকা অর্জন করার, কিন্তু বিজেপি সেই অধিকারকে খর্ব করতে চায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমরা জানি, বিজেপি বাংলাকে একদিকে রেখে পুরো দেশের ওপর রাজত্ব করতে চায়। কিন্তু বাংলার মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না, বাংলার জনগণ জানে কীভাবে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে হয়।” তিনি বলেন, “আমরা আতিথেয়তা দিতে জানি, কিন্তু সেটা কখনোই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়।”
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি একেবারে তীব্র মন্তব্য করে বলেন, “এটা যেন মনে না হয় যে, শুধু তারা একাই দেশ চালাবে, আমাদেরও সেই অধিকার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তার শক্তি দেখিয়ে দেবে।” তিনি বাংলার মানুষদের সচেতন করে বলেন, “তারা জনগণের প্রতি অবিচার করছে, অথচ আমরা রাজ্যের উন্নয়নে মনোযোগী।” মমতা বলেন, “এখন সময় এসেছে, যখন আমরা সত্যিকারের পরিবর্তন চাই। বাংলার মানুষ জানে, তারা কী চাইছে এবং কীভাবে তার অধিকার দাবি করতে হয়। এই রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের কাছে আমি আহ্বান জানাই—আমরা সবাই একসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়ন এবং অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করব।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই তীব্র বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা দাবি করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা রয়েছে, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুগুলি আরো তীব্র হয়ে উঠবে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
