
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে বাড়তি নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। কোন কেন্দ্রে কত ভোটারের নাম বাদ পড়ছে, তার প্রভাব আগামী দিনে কোন দলের উপর কী ভাবে পড়তে পারে— তা নিয়ে জোর চর্চা চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রথম খসড়া ভোটার তালিকা সামনে আসতেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্র থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক।
৪৪ হাজার ৭৭০ জন ভোটারের নাম বাদ
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, ভবানীপুরে মোট ৪৪ হাজার ৭৭০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সংখ্যাটা প্রায় ৪৫ হাজারের কাছাকাছি। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথ হিসেবেই পরিচিত মিত্র ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন ২৬০ নম্বর বুথে বাদ পড়েছে ১২৭ জনের নাম। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এই ১২৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মৃত। বাকিদের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে— কেউ খুঁজে পাওয়া যায়নি, আবার কেউ স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ে তৃণমূল শিবিরে। মঙ্গলবার সকালে খসড়া তালিকা প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই কালীঘাটে নিজের বাসভবনে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার কাউন্সিলরদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ-২)।
কোন কোন ভোটারের নাম বাদ
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল— ঠিক কোন কোন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার বিস্তারিত খতিয়ান নেওয়া এবং সংগঠনের স্তরে স্তরে সতর্কতা জারি করা। পাশাপাশি, বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে কী ভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও দিকনির্দেশ দিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসন থেকে জয়ী হলেও কেন্দ্রের রাজনৈতিক অঙ্ক তৃণমূলের জন্য পুরোপুরি স্বস্তির ছিল না। আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া এই কেন্দ্রে আগামী নির্বাচনের আগে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
ভোটার তালিকা ঘিরে এই পরিবর্তন ভবানীপুরে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে স্পষ্ট, বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না শাসক দল।




