
কলকাতা: ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের ক্ষেত্রে বড়সড় বদল। পরিচয়পত্র বা বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে (Madhyamik Admit Card) আর বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্যের পাঠানো এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি তারা খারিজ করে দিচ্ছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত কমিশনের?
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নথিকে ‘বৈধ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, সেই তালিকায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের কোনো উল্লেখ নেই। কমিশনের মতে, স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে পূর্বনির্ধারিত তালিকার বাইরে গিয়ে হুট করে নতুন কোনো নথিকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। ফলে ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SSR 2026) ক্ষেত্রে এই পুরোনো নথিটি আর কোনো কাজে আসবে না।
সমস্যায় পড়তে পারেন নতুন ভোটাররা Madhyamik Admit not valid for SIR
প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, কমিশনের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চাইছেন, সেইসব পড়ুয়া ও তরুণ-তরুণীদের সমস্যা বাড়তে পারে। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড দেখানোর দীর্ঘদিনের চল ছিল। এখন থেকে সেই বিকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র বা পাসপোর্ট-এর মতো নির্দিষ্ট নথিগুলোর ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে আবেদনকারীদের।
স্বচ্ছতা বজায় রাখাই লক্ষ্য
নির্বাচন কমিশনের দাবি, সারা দেশে নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ও কঠোর নিয়ম বজায় রাখা জরুরি। কোনো রাজ্যে একটি নথি গ্রাহ্য হবে আর অন্য রাজ্যে হবে না—এমন বৈষম্য দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নির্ভুল করার যে কাজ চলছে, তাতে এই নির্দেশিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলে।










