কলকাতা: বছরের শেষ দিনেও মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘর (vegetable prices )নিয়ে দুশ্চিন্তা কমল না। ৩১ ডিসেম্বর, নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আগে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বাজারে সবজির দামে খুব একটা স্বস্তি নেই।
যদিও কয়েকটি সবজিতে দাম স্থিতিশীল রয়েছে, তবে পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচালঙ্কা এবং আমলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও মৌসুমি কিছু পণ্যের দর এখনও বেশ চড়া। বছরের শেষ দিনে বাজারে পা রাখলেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, উৎসবের আবহ থাকলেও পকেটের উপর চাপ কমেনি।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পেঁয়াজ ও টমেটোর দাম। বড় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও খুচরো বাজারে তা ৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে। ছোট পেঁয়াজের দাম আরও বেশি ৫৮ থেকে ৬৪ টাকা কেজি, কোথাও কোথাও ৮০ টাকার কাছাকাছিও। একই ছবি টমেটোর ক্ষেত্রেও। গড়ে ৫৮ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও অনেক বাজারে ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। বিক্রেতাদের দাবি, শীতের কুয়াশা ও পরিবহণ সমস্যার কারণেই জোগান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তা, অনুশীলন বন্ধের সিদ্ধান্ত বেঙ্গালুরু এফসির
কাঁচালঙ্কার দামও স্বস্তিদায়ক নয়। পাইকারি বাজারে ৫২ থেকে ৫৭ টাকা হলেও খুচরো বাজারে তা ৭০ টাকার গণ্ডি ছুঁয়েছে। ফলে বছরের শেষ দিনে ঝাল দিয়ে রান্না করতে গিয়েও হিসেব কষতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে বিটরুটের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে এই সবজি।
আলুর দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আলু, যা শীতের মরশুমে কিছুটা স্বস্তির খবর। কাঁচা কলা, লাউ, কুমড়ো, বাঁধাকপি ও ফুলকপির মতো সবজির দামও তুলনামূলকভাবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৩ টাকা, ফুলকপি ৩৭ থেকে ৪১ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শাকসবজির বাজারেও মিশ্র ছবি। ধনেপাতা, কলমিশাক, কচুপাতার মতো শাকের দাম তুলনামূলক কম হলেও আমরান্থ লিভস বা নটে শাকের দাম ২০ থেকে ২৮ টাকা কেজি। শীতের দিনে শাকের চাহিদা বাড়ায় দাম স্থিতিশীল থাকলেও খুব একটা কমেনি।
সবচেয়ে বেশি চমক দিয়েছে আমলার দাম। কেজিপ্রতি ১০৯ থেকে ১২১ টাকা গড়ে বিক্রি হলেও ভালো মানের আমলার দাম ১৫০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। শীতকালে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে আমলার চাহিদা বাড়ায় এই দাম বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। নারকেলের দামও চড়া ৮০ থেকে ১১১ টাকা পর্যন্ত।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শেষ দিকে উৎসব, পিকনিক এবং নতুন বছর উদযাপনের জন্য সবজির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তার উপর শীতের কুয়াশা, ভোরের ঠান্ডা ও পরিবহণ সমস্যা যোগ হওয়ায় জোগানে চাপ পড়ছে। ফলে দাম খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।
নতুন বছরের শুরুতে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন ক্রেতারা। তবে তার জন্য আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া জরুরি। আপাতত বছরের শেষ দিনে সবজির বাজারে স্বস্তি আর অস্বস্তির মাঝামাঝি অবস্থানেই দাঁড়িয়ে বাঙালি।
