কলকাতা: বৃহস্পতিবার ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা** উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি শুধু বইমেলার উদ্বোধন করেননি, পাশাপাশি নিজের সাহিত্যিক অভ্যাস এবং লেখার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিজ্ঞতাও ভাগ করেন। তিনি জানান, “প্লেনে যাত্রা করার সময়ই আমি বই লিখি। কম্পিউটারে টাইপ করতে আমার ভালো লাগে না। আমি হাতে লিখি, তা পরে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বই লেখা তার জন্য কেবল পেশাগত নয়, বরং মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমও। তিনি বলেন, “হাতের লেখায় যে আনন্দ এবং সংযোগ আছে, তা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সম্ভব নয়। আমার জন্য হাতে লেখা বইই প্রিয়।” এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত দর্শক, লেখক এবং প্রকাশকরা মমতার সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং লেখার প্রতি গভীর আগ্রহে মুগ্ধ হন।
মমতা আরও বলেন, “যাত্রার সময় হাতে লেখা বই আমার অভ্যাসের একটি বড় অংশ। বিশেষ করে বিমান বা দীর্ঘ ভ্রমণে, এই সময়কে আমি সৃজনশীল কাজে ব্যয় করি। হাতের লেখার মাধ্যমে আমার ভাবনা আরও পরিষ্কার এবং প্রাঞ্জল হয়।” তিনি নিজের এই অভ্যাসকে উদাহরণ দিয়ে প্রকাশ করেন যে, ভ্রমণও মানুষের সৃজনশীলতা জাগাতে পারে। বইমেলায় উপস্থিত অনেক প্রকাশক এবং লেখক মমতার এই অভ্যাসের প্রশংসা করেন। একজন প্রকাশক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে হাতে লিখে বই লেখেন, তা প্রমাণ করে যে সাহিত্য তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি নতুন লেখকদের জন্যও প্রেরণাদায়ক।” মেলার শুরুতেই মমতার এই মন্তব্য বইপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ এবং উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
মুখ্যমন্ত্রী এই বার্ষিক মেলাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি গিল্ড কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই মেলা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য গিল্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। তাঁদের প্রচেষ্টা ছাড়া এই মেলাকে এতটা সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হতো না।”
মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে মমতা প্রকাশকদের সঙ্গে আলাপ করেন, নতুন প্রকাশিত বই দেখেন এবং স্থানীয় প্রকাশকদের উৎসাহ দেন। শিশুদের জন্য আলাদা কর্ণার, সাহিত্য কর্মশালা, আলোচনাসভা—সবই এই মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, বইমেলার এই পরিবেশে পাঠকরা নতুন লেখক ও নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, যা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
