
কলকাতা: শীত পড়েছে, সকাল-সন্ধ্যায় ঠান্ডার আমেজ টের পাচ্ছেন শহর থেকে (Vegetable prices in winter)গ্রাম—কিন্তু রান্নাঘরের বাজারে ঢুকলেই বাঙালির সেই শীতের স্বস্তি যেন উধাও। সবজির ঝাঁঝালো দামে পকেটে কাঁটা লেগেই আছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এসেও কলকাতা ও জেলার বাজারে শীতকালীন সবজির দামে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি মিলছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই দাম চড়া থাকায় মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির মাসের বাজেট নতুন করে হিসেব কষতে হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনের রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পেঁয়াজ ও আলুর দামই চিন্তার বড় কারণ। বড় পেঁয়াজের খুচরো দাম কেজি প্রতি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, কোথাও কোথাও তা ৫০ টাকা ছুঁয়ে যাচ্ছে। ছোট পেঁয়াজের অবস্থা আরও খারাপ—খুচরো বাজারে দাম ৫৩ থেকে ৫৮ টাকা, কিছু এলাকায় ৭০ টাকার গণ্ডিও পার করছে। আলুর ক্ষেত্রেও একই ছবি। পাইকারি দরে ৩৫ টাকা হলেও খুচরো বাজারে আলু বিকোচ্ছে ৪০ থেকে ৪৪ টাকায়, কোনও কোনও বাজারে ৫৫–৫৮ টাকাও হাঁকা হচ্ছে।
এপিএফ ম্যাচের আগে কী বললেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ?
টমেটোর দাম কিছুটা কমলেও এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। কেজি প্রতি টমেটো ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে এখনও বেশ চড়া। কাঁচা লঙ্কার দামও চোখে পড়ার মতো—৪৭ থেকে ৫২ টাকা কেজি, যা অনেক বাজারে ৬৫–৬৮ টাকায় পৌঁছেছে। রান্নায় স্বাদ আনতে গিয়ে লঙ্কাই এখন ঝাল দামে!
শীতকাল মানেই পাতাওয়ালা ও নানা রকম সবজির সমারোহ—কিন্তু দাম দেখে সেই আনন্দ অনেকটাই ফিকে। বাঁধাকপি ও ফুলকপির মতো শীতের জনপ্রিয় সবজি কেজি প্রতি ৩৩ থেকে ৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিছু বাজারে তা ৪৮ টাকার কাছাকাছি। গাজরের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ টাকা, বিট ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। ক্যাপসিকাম, করলা, ঝিঙে বা লাউয়ের মতো সবজিও ৪৫ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
পাতাওয়ালা সবজির ক্ষেত্রেও খুব একটা সস্তা ছবি নেই। অমরনাথ শাক কেজি প্রতি ১৫ থেকে ১৭ টাকা হলেও খুচরো বাজারে তা ২০ টাকার বেশি। কাঁচা কলা, চালকুমড়ো বা কলার মোচার মতো তুলনামূলক সস্তা সবজি কিছুটা স্বস্তি দিলেও সার্বিক বাজারদর যে নিম্নমুখী, তা বলা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি চমক দিচ্ছে আমলকী—শীতের মরসুমি এই ফলের দাম কেজি প্রতি ১০৯ থেকে ১২১ টাকা, কোথাও কোথাও ১৫০ টাকার উপরে।
বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহণ খরচ, জ্বালানির দাম এবং পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত জোগান না থাকাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। অন্যদিকে ক্রেতাদের বক্তব্য, শীতের মরসুমে যেখানে সবজি তুলনামূলক সস্তা হওয়ার কথা, সেখানে এমন দাম সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন। অনেকেই বলছেন, সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সবজির পরিমাণও কমাতে হচ্ছে।







