সুপ্রিম নির্দেশে ব্যাকফুটে নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Supreme Court) প্রক্রিয়াকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনভোগান্তি চরমে, ঠিক সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।…

west-bengal-sir-supreme-court-guidelines-eci-transparency

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Supreme Court) প্রক্রিয়াকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনভোগান্তি চরমে, ঠিক সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে (ECI) স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দিয়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথাকথিত যৌক্তিক অসঙ্গতির নামে যেন সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হন।

Advertisements

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে SIR প্রক্রিয়ায় যাদের বাবা-মায়ের নামের সামান্য অমিল, বা বয়সের ব্যবধান কম এমন নানা কারণে ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ বিভাগে ফেলে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১.২৫ কোটি মানুষ ইতিমধ্যেই এই ধরনের নোটিশ পেয়েছেন। আদালতের মতে, এত বিপুল সংখ্যক নাগরিকের উপর এই প্রশাসনিক চাপ স্বাভাবিক জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

   

বঙ্গে ৭ জন ধৃতরাষ্টের খোঁজ পেল নির্বাচন কমিশন!

এই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যেসব ব্যক্তিকে ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র কারণে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত অফিস বা ব্লক অফিসে প্রকাশ করতে হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ আগেভাগেই জানতে পারবেন তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না, এবং কোন কারণে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদালতের মতে, স্বচ্ছতা বাড়লে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক অনেকটাই কমবে।

আদালত আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে নোটিশ প্রাপ্ত ব্যক্তি নিজে হাজির হতে না পারলে, তিনি অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে নথি জমা দিতে পারবেন। এই এজেন্ট বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) হতে পারেন এবং তাঁদের নিয়োগ করতে হবে স্বাক্ষর বা টিপসইযুক্ত চিঠির মাধ্যমে। বহু সাধারণ মানুষের পক্ষে বারবার ব্লক অফিসে হাজির হওয়া কঠিন এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে যেন ভয় দেখানো বা হয়রানি করা না হয় সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর দাবি, গণতন্ত্রে ভোটারের অধিকার রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের মৌলিক দায়িত্ব।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে SIR প্রক্রিয়া আরও মানবিক ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। কারণ বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল বা বয়সের সামান্য অমিল বহু ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক ত্রুটি বা পুরনো নথির সমস্যার ফল। সেসব কারণে ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গে চলতে থাকা SIR প্রক্রিয়ায় একটি বড় দিশা দেখাল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশিকা কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে, এবং তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আদৌ কমে কি না।

Advertisements