SIR নিয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং কমিশনের! কি নোটিশ দিলেন সিইও?

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হুমকির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের চিফ ইলেকটোরাল অফিসার (সিইও)…

west-bengal-sir-election-commission-ceo-notice

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হুমকির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের চিফ ইলেকটোরাল অফিসার (সিইও) মনোজ আগরওয়াল একটি নোটিফিকেশন জারি করেছেন।

Advertisements

তিনি সব ডিস্ট্রিক্ট ইলেকটোরাল অফিসার (ডিইও)-দের নির্দেশ দিয়েছেন এসআইআর শুনানি চলাকালীন বা এসআইআর-সংক্রান্ত কোনো কাজে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে বা কোনো অফিসিয়াল বা স্টাফের উপর হুমকি আসলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করতে হবে।

   

Santosh Trophy: উত্তরাখণ্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় বাংলা দলের

নোটিফিকেশনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এফআইআর দায়েরে কোনো বিলম্ব হলে তা গুরুতরভাবে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ডিইও-র বিরুদ্ধে প্রতিকূল অনুমান (অ্যাডভার্স ইনফারেন্স) টানা হবে।এসআইআর প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বর থেকে। এতে প্রায় ১.৪ কোটি ভোটারের নাম ‘আনম্যাপড’ বা লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি-তে ফ্ল্যাগ করা হয়েছে।

এদের শুনানিতে হাজির হয়ে ডকুমেন্ট দেখাতে হচ্ছে। কিন্তু প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, হুমকি, এমনকি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, রাজ্যে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এসআইআর-এর বিরুদ্ধে ‘সিস্টেম্যাটিক প্যাটার্ন অফ ভায়োলেন্স অ্যান্ড থ্রেট’ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ‘প্রভোকেটিভ’ বলে অভিহিত করে কমিশন বলেছে, এতে অফিসারদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে ৯ জন মাইক্রো-অবজার্ভার হিংসার কারণে কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।সিইও মনোজ আগরওয়ালের নোটিফিকেশন এই পরিস্থিতিতে অফিসারদের সুরক্ষা ও প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য জারি করা হয়েছে। ডিইও-রা যারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও, তাদের বলা হয়েছে কোনো অঘটন ঘটলে তাৎক্ষণিক পুলিশে রিপোর্ট করতে হবে। বিলম্ব হলে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, কমিশন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সহ্য করবে না।এসআইআর-এর অগ্রগতি এখনও ধীর। ১৮ দিনে মাত্র ৯.৩ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হয়েছেন, যা মোট ১.৩ কোটির মাত্র ৬.৬%। ৬৫.৮ লক্ষ নোটিস জেনারেট হয়েছে, কিন্তু ডেলিভারি হয়েছে মাত্র ৩২.৪ লক্ষ। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ডেডলাইন ১০ দিন বাড়তে পারে।

ফাইনাল লিস্ট ১৪ ফেব্রুয়ারির পর প্রকাশিত হতে পারে।রাজনৈতিক মহলে এই নোটিফিকেশন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিজেপি বলছে, টিএমসি এসআইআর-কে বাধা দিচ্ছে, ফর্ম-৭ জমা দেওয়ায় অসুবিধা তৈরি করছে।

অন্যদিকে টিএমসি বলছে, এসআইআর-এর নামে ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণির মানুষদের। কমিশন অবশ্য বলছে, প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ। মার্জিনালাইজড গ্রুপের জন্য অফিসারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

Advertisements