এসআইআর-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এক ধরণের চাপান-উতোর শুরু থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার সেই ধারা জারি রেখেছে বিএলও-দের নিয়োগ নিয়ে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) সম্প্রতি বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, রাজ্য সরকার তথা শিক্ষা দফতরের অনুমতি বা অবহিতকরণ ছাড়াই রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিএলও হিসেবে নিয়োগ করেছে কমিশন।
ব্রাত্য বসু দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষিকার উপর এই ধরনের হঠাৎ দায়িত্ব আরোপের মাধ্যমে শিক্ষার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে।” শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমনভাবে কমিশন কাজ করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা পরিচালনার স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা পড়তে পারে।
এই প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে সম্প্রতি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কমিশনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষকদের কমিশনের কাজে বাধ্য না করা হোক। পর্ষদ আশা করছে, শিক্ষকরা তাদের মূল দায়িত্ব — শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি — শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবেন।
ব্রাত্য বসু পর্ষদের এই উদ্যোগের পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও ধরনের ব্যাঘাত না ঘটানো। তবে এভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের না জানিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বিএলও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত অনুচিত ও সমস্যাজনক। তিনি বলেন, “আমরা চাই শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হোক এবং শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় স্বাভাবিকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।”
শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, বিএলও নিয়োগের বিষয়টি পূর্বে জানানো হলে শিক্ষকদের প্রস্তুতি এবং পরীক্ষার সময়সূচি আরও সুচারুভাবে সামলানো যেত। অননুমোদিত নিয়োগের ফলে শিক্ষক ও শিক্ষিকা দুই পক্ষেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
