কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দিকে রাজ্যের রাজনৈতিক ( Election)আবহাওয়া ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক একটি ইলেকশন ট্র্যাকার সমীক্ষায় যে ছবি উঠে এসেছে, তা তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-র জন্য সতর্কবার্তা এবং বিজেপির জন্য আশার আলো। সমীক্ষা অনুযায়ী, টিএমসি পেতে পারে ১৭৪ ±৯ আসন (ভোট শেয়ার প্রায় ৪৬%), বিজেপি ১১৭ ±৯ আসন (৪০%), কংগ্রেস+বামফ্রন্ট মিলে মাত্র ৩ ±১ আসন (১২%), এবং অন্যান্য ২%।
এই ফলাফল রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে টিএমসিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিলেও, ২০২১-এর ২১৩+ আসনের তুলনায় বড় পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টেলিফোনিক সমীক্ষা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনায় বারবার একই কথা শোনা যাচ্ছে “দিদি ভালো, কিন্তু বিধায়করা ভালো কাজ করছেন না”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনও অনেকটা অটুট, কিন্তু দলের স্থানীয় নেতা-বিধায়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।
মিয়া মুসলিম উচ্ছেদের জমিতে ভবিষ্যতের ফসল বুনলেন মামা
দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, স্থানীয় স্তরে অবহেলা, এসব নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ জমছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালে এই অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি এখন প্রেসিডেন্সি অঞ্চল, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের শহরাঞ্চলে ও আশপাশে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিজেপি এই ফাঁক দিয়ে ধীরে ধীরে দুর্গে ঢোকার চেষ্টা করছে।সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপির ভোট শেয়ার ৪০%-এ পৌঁছে গেছে, যা ২০২১-এর ৩৮%-এর থেকে উন্নতি।
উত্তরবঙ্গ, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া-পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রামের মতো এলাকায় তারা শক্তিশালী অবস্থানে। প্রেসিডেন্সি বিভাগে বিজেপির আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। টিএমসি যদি এই অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি কাটিয়ে উঠতে না পারে, তাহলে তাদের অনেক আসন বিজেপির দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। বিশেষ করে নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা-হাওড়া-হুগলির মতো এলাকায় লড়াইটা হবে কঠিন।
টিএমসির পক্ষে এখনও বড় শক্তি হলো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, দুয়ারে সরকারের মতো জনকল্যাণ প্রকল্প। মহিলা ও গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ‘দিদি’-র ছবি এখনও গভীরভাবে প্রোথিত। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, স্থানীয় স্তরে বিধায়ক-নেতাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনেকে হতাশ। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রার্থী বাছাইয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ – এসবও ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে হবে, কড়া প্রার্থী বাছাই, বুথ স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।অন্যদিকে বিজেপি জাতীয় স্তরের গতি ও স্থানীয় ইস্যু যেমন আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, অভিবাসন নিয়ে আক্রমণাত্মক হচ্ছে।
তারা দাবি করছে, টিএমসির দুর্গ ভাঙার সময় এসেছে। কিন্তু বিজেপিরও চ্যালেঞ্জ আছে সংগঠনকে আরও মজবুত করা, হিন্দু ভোটের একীভূতকরণ, এবং স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলা।কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের অবস্থান এখনও দুর্বল। তাদের ভোট শেয়ার কমে যাচ্ছে, জোটের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা। ফলে এই নির্বাচন মূলত টিএমসি বনাম বিজেপির সরাসরি লড়াই।
