কলকাতা: দুয়ারে কড়া নাড়ছে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তর সব জায়গাতেই এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসন্ন ভোট। ক’দফায় নির্বাচন হবে, ভোটার তালিকা ঠিক কবে প্রকাশিত হবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এই সব প্রশ্নেই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। যদিও এখনও পর্যন্ত ভোটের দফা নিয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এই পরিস্থিতিতে ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকাঠামো তৈরির কাজে নেমে পড়েছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজার সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন থানাকে চিঠি পাঠিয়ে সম্ভাব্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলির বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন কোন স্কুল, কলেজ, সরকারি অতিথিশালা ও গেস্টহাউসে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা যেতে পারে, সেই জায়গাগুলির পরিকাঠামো কেমন এবং সেখানে কী ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে জমা দিতে হবে।
কারণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। তাই তাঁদের থাকার জায়গায় নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানীয় জল, উপযুক্ত শৌচালয় এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একসঙ্গে বহু জওয়ান থাকার জন্য বড় হলঘর, থাকার ঘর, রান্নাঘর ও খাবারের সুব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই আগেভাগে সমস্ত জায়গা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনা করতে চাইছে কলকাতা পুলিশ।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, গতবারের বিধানসভা নির্বাচনের মতো আট দফার পরিবর্তে এ বার এক, দুই অথবা তিন দফায় ভোট শেষ করার ইঙ্গিত মিলছে। কম দফায় ভোট হলে স্বাভাবিকভাবেই একসঙ্গে বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হবে। ফলে শহরে বাহিনী রাখার জন্যও অনেক বেশি জায়গার দরকার পড়বে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতার জন্য প্রায় ২৪৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনে সেই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
এদিকে রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে এ বার বিধানসভা ভোটে ৩৬ হাজারের বেশি রাজ্য পুলিশ কর্মী ভোটের কাজে দিতে পারবে না। ফলে নিরাপত্তার বড় অংশটাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর নির্ভর করবে। সেই কারণেই বাহিনীকে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সংস্কারে কত খরচ হতে পারে, তার একটি প্রাথমিক বাজেট তৈরির কাজ শুরু করেছে লালবাজার। চলতি মাসের মধ্যেই সেই বাজেট তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
অন্যদিকে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার উপরও। তবে সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে রাজি নয় কলকাতা পুলিশ।
