
কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম দিনে সবজি বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য (vegetable)মিলেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। শীতের মরসুমে জোগান তুলনামূলক ভালো থাকায় বেশিরভাগ সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় আলু ও পেঁয়াজের দর সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তবে কয়েকটি সবজিতে মানভেদে দামের তারতম্য চোখে পড়ছে।
এদিন বাজারে জ্যোতি আলুর দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ২২ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। চন্দ্রমুখী আলুর দাম কিছুটা বেশি হলেও তা ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ব্যবসায়ীদের মতে, শীতকালীন আলুর জোগান পর্যাপ্ত থাকায় আপাতত দাম বাড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল। কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৩.৫ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় খুব একটা পরিবর্তন নয়।
আইপ্যাক কাণ্ডে মমতার পাশে বামপন্থী দল
প্রধান সবজিগুলির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, টমেটোর দামে কিছুটা ওঠানামা রয়েছে। বাজারে টমেটো কেজি প্রতি ২২ টাকা থেকে শুরু করে ভালো মানের ক্ষেত্রে ৪৯.৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। খুচরো বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, টমেটোর মান ও উৎস অনুযায়ী দামের এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন কম হলে বাইরের রাজ্য থেকে আসা টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি পড়ছে।
বেগুনের দাম কেজি প্রতি ২৫.৩ টাকা থেকে ৪২ টাকার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন জাতের বেগুন বাজারে থাকায় দামের তারতম্য দেখা যাচ্ছে। ফুলকপি এই মুহূর্তে সবচেয়ে সস্তা সবজিগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। বাঁধাকপির দামও নিয়ন্ত্রণে, প্রতি পিস ১৯ থেকে ২০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।
শীতকালীন সবজি গাজরের দাম কিছুটা চড়া। কেজি প্রতি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের মতে, ভালো মানের গাজরের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি। করলার ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য আরও স্পষ্ট। করলা কেজি প্রতি ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১১০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, যা মূলত আকার ও মানের ওপর নির্ভর করছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে শসা কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কুমড়োর দাম তুলনামূলক কম, মাত্র ১০ টাকা কেজি। ঢেঁড়স বা ভিন্ডির দাম পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ৬০ টাকা থাকায় খুচরো বাজারেও দাম কিছুটা বেশি। ক্যাপসিকাম পাইকারি দর অনুযায়ী কেজি প্রতি ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা শহরের বাজারে মাঝারি পর্যায়েই রয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজির জোগানে কোনও বড় সমস্যা নেই। ফলে হঠাৎ করে দাম লাফিয়ে বাড়ার সম্ভাবনাও কম। তবে পরিবহণ খরচ বা আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে কিছু সবজির দামে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, প্রতিদিনের বাজারদর দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করার।
সব মিলিয়ে, সপ্তাহের প্রথম দিনে সবজি বাজারে বড় কোনও ধাক্কা নেই। আলু-পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাধারণ মানুষের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ মিলেছে। এখন দেখার বিষয়, এই স্থিতিশীলতা সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও বজায় থাকে কিনা।







