
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বীরভূমে সভা করার জন্য মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই হেলিকপ্টারের অনুমতি নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় কলকাতাতেই আটকে পড়তে হল তাঁকে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু আধিকারিকদের গড়িমসি দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, হেলিকপ্টারের অনুমতি নিতে দেরি করা বা তা আটকে রাখা মূলত বিজেপির কৌশল। দল বলছে, রাজ্যে তৃণমূলের প্রচার-সভায় যোগদান এবং কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে পারে এমন ভাবেই DGCA-এর উপর প্রভাব খাটিয়ে বাধা দিতে চাইছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) সরাসরি বীরভূমের সভায় উপস্থিত হতে না দেওয়ার এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের বক্তব্য, “আমরা হেলিকপ্টারের জন্য সব প্রয়োজনীয় অনুমতি সময়মতো জমা দিয়েছি। কিন্তু DGCA-এর কিছু আধিকারিক এই অনুমতি প্রসেসে অযথা দেরি করছেন। আমাদের মনে হচ্ছে, এই জটিলতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। বিজেপি আমাদের প্রচার কার্যক্রমে বাধা দিতে এই প্রভাব খাটাচ্ছে।”
সূত্র জানায়, বীরভূমের সভার জন্য অভিষেকের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে স্থানীয় নেতা ও জনসমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন ঘটনাগুলি রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। তারা মনে করছেন, হেলিকপ্টার অনুমতি নিয়ে এই বিতর্ক কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবেও দেখা যায়। “যেখানে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না, সেখানে রাজনৈতিক বার্তা শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে,” বলছেন বিশ্লেষকরা।
DGCA বা কেন্দ্রীয় সরকারি স্তরের পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূলের অভিযোগ অনুসারে, কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা হেলিকপ্টারের অনুমতি দিতে গড়িমসি করছেন, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা সফরে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টার সমস্যা থাকা সত্ত্বেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় যোগ দেবেন এবং দল স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চেষ্টা করবে। তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক বাধা যতই থাকুক, দলের কর্মসূচি ও প্রচার কার্যক্রমে কোনোরকম বিঘ্ন আসতে দেওয়া হবে না।










