
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) আবারও তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে তীব্র আক্রমণ করেছেন। সম্প্রতি, দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ এবং তার পরবর্তী ঘটনার পর অধীর রঞ্জন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “মনে হয় তাদের (তৃণমূল) কিছু সাংসদ এখনও দিল্লিতে রয়েছেন। গতকালের ঘটনার পর তারা বুঝতে পেরেছে যে প্রতিবাদ করা উচিত। তবে আমার প্রশ্ন হলো, যখন বাংলার অভিবাসী শ্রমিকরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে যান এবং তাদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে আক্রমণ করা হয়, তখন কেন তৃণমূল কোনো প্রতিবাদ জানায়নি, না তো পার্লামেন্টে এবং না তো বাইরে?”
এছাড়া, তিনি আরও বলেন, “এখন, যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে, তখন তারা প্রতিবাদ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এটাই আমি বলব, এটি শুধুমাত্র নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা।”
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর(Adhir Ranjan Chowdhury) এই মন্তব্যগুলি রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের প্রতিবাদের উদ্দেশ্য এবং সময় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের দিল্লি প্রতিবাদ একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তেমনই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) তার মন্তব্যে যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা হল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মকাণ্ডের প্রতি তাদের দলীয় অবস্থান। তিনি দাবি করেন যে, যখন বাংলার অভিবাসী শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত থাকেন এবং তাদের “বাংলাদেশি” হিসেবে আক্রমণ করা হয়, তখন তৃণমূল কংগ্রেস কোনও প্রতিবাদ করেনি। অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর হামলা, যে কারণে অনেকেই নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ফিরে এসেছেন, তৃণমূল এই বিষয়ে কেন কিছু বলেনি, এই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রু কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল কেবল তখনই প্রতিবাদ করে, যখন তাদের নিজের পার্টির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকে। এর মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “এই প্রতিবাদকে রাজনৈতিকভাবে দেখলে, তৃণমূল নিজেদের জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়তে চাইছে। তারা জানে যে, ইডির পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে তাদের সম্পর্ক এই মুহূর্তে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, এবং এভাবেই তারা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে।”









