দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে গেল শ্যামসুন্দরী মন্দিরের (Shyamsundari Kali Temple) দরজা। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ও প্রতীক্ষার অবসান হলেও, পুরো বিষয়টি ঘিরে যে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও মানুষের মনে রয়ে গেছে। মন্দির বন্ধ থাকার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বহু পুণ্যার্থী। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমতে শুরু করে। দর্শনের সুযোগ না পেয়ে অনেকেই প্রতিবাদে সরব হন এবং মন্দির খোলার দাবিতে আওয়াজ তোলেন।
প্রথমদিকে মন্দির (Shyamsundari Kali Temple) কর্তৃপক্ষের তরফে দরজা বন্ধ রাখার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে পুণ্যার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে থাকে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দর্শনের সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুণ্যার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ শুরু করেন। মন্দির খোলার দাবিতে স্লোগান ওঠে, তবে কোথাও কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পুরো সময়জুড়ে মন্দির চত্বরে কোনও পুলিশ মোতায়েন ছিল না। তবুও পুণ্যার্থীরা নিজেরাই শৃঙ্খলা বজায় রাখেন এবং পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সচেতন ছিলেন।
দীর্ঘ সময়ের টানাপোড়েনের পর অবশেষে মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত বদল করে। বিকেলের দিকে শ্যামসুন্দরী মন্দিরের (Shyamsundari Kali Temple) দরজা খুলে দেওয়া হয়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পুণ্যার্থীদের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়। বহু ভক্ত ‘জয় শ্যামসুন্দরী’ ধ্বনিতে মন্দির(Shyamsundari Kali Temple) চত্বর মুখরিত করে তোলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দর্শনের সুযোগ পেয়ে অনেকের চোখেই আবেগের জল দেখা যায়।সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ভিড় ব্যবস্থাপনা। পুলিশ না থাকলেও পুণ্যার্থীরাই নিজেদের উদ্যোগে সুষ্ঠভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রবীণ, মহিলা ও শিশুদের আগে দর্শনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। একে অপরকে সহযোগিতা করে ধীরগতিতে লাইন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়। এই স্বতঃস্ফূর্ত শৃঙ্খলা ও সহযোগিতা অনেকের কাছেই প্রশংসার বিষয় হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা পুণ্যার্থীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান এবং প্রয়োজনে জল ও প্রাথমিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে পরে জানানো হয়, কিছু প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে সাময়িকভাবে দরজা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে সময়মতো সেই তথ্য ভক্তদের না জানানোয় বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে স্বীকার করেন কর্তৃপক্ষ।
