কলকাতা: রবিবার সকাল থেকেই মহা ধুমধাম ব্রিগেড ময়দানে (Tathagata Roy on Bhagavad Gita)। সমারোহের নাম ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ। এই সমারোহেই বিশেষ ভাবে আপ্লুত বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। তার সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করেছেন বামেদের মোটা মোটা মার্ক্স এবং মাও তত্ত্বের বইগুলিকে। আজকের এই গীতাপাঠের অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিনি তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন “গীতার মাহাত্ম্য কোথায়?
এটা ধর্মগ্রন্থ তো বটেই, কিন্তু শুধু ধর্মগ্রন্থ নয় । সুষ্ঠুভাবে, সুস্থভাবে ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন কাটাবার জন্য এটা একটা ‘ম্যানুয়েল’, যা পৃথিবীর যে কোনো ধর্মের, যে কোন জাতির মানুষের প্রতি প্রযোজ্য।” তথাগত আরও বলেছেন, ” তাই প্রথম আণবিক বিস্ফোরণ দেখে তার জনক জে রবার্ট ওপেনহাইমারের মনে প্রথম এসেছিল গীতার একটি শ্লোক, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।
Indigo Crisis: সোমবার এই রুটে বিশেষ ট্রেন চলবে; ১৮টি ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ থাকবে
কাজে সফল বা বিফল হবার আগে এবং পরে সবচেয়ে অমোঘ মন্ত্র, “কর্মণ্যে ব্যাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন…”। এ কোনো কি করে খেতে হবে, কি করে শুতে হবে তার অনুশাসন নয়, উচ্চতম দর্শন, যা সাধারণ মানুষেরও বোধগম্য । এই শ্লোকগুলো যত পড়া যায় তত এর নতুন নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।” এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। তিনি বামপন্থীদের কাছে ধর্ম গ্রন্থ সম মার্ক্স-মাওয়ের বইকে কটাক্ষ করে বলেছেন, মার্কসের বিশাল কেতাব, মাওয়ের লাল বই, এডাম স্মিথের চিন্তাভাবনা, সবই আজ পরিত্যক্ত।
বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে শুধু এই ছোট্ট বইটি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।” তথাগতের এই পোস্ট মন জয় করে নিয়ে আপামর বাঙালির এবং তারাও আজকের এই অনুষ্ঠানে যথেষ্ট আনন্দিত। আজকের এই অনুষ্ঠানে সাধু সন্তদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারী। এই ইস্যুতেই অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে এ ধরনের আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে নেতাদের অংশগ্রহণ কি নতুন ধরণের ‘সফট পাওয়ার’ রাজনীতি?
বিশেষ করে তথাগত রায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতা যখন মার্ক্স-মাওয়ের তত্ত্বকে “ফেলে দেওয়া” বলে দাবি করেন, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই তর্ক-বিতর্কের জন্ম দেয়। বামেদের দাবি ধর্মীয় গ্রন্থের মাহাত্ম্য স্বীকার করেও দর্শন ও অর্থনৈতিক তত্ত্বকে ‘বাতিল’ বলার চেষ্টার মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
মার্ক্সবাদীদের মতে, গীতা, কোরান বা বাইবেলের মতো ধর্মগ্রন্থ একটি সমাজের সংস্কৃতির অংশ হলেও মার্ক্স, মাও বা স্মিথের তত্ত্ব সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামো বোঝার বৈজ্ঞানিক প্রয়াস। তবে তথাগত রায়ের আজকের পোস্টে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে তাঁর বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন—আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনের মেলবন্ধনই নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাতে পারে।
