
সম্প্রতি কেরলের বামপন্থী সরকারের তরফ থেকে সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনকে সম্মানিত করা হয়েছে (Taslima Nasrin)। কেরলের কোল্লামে একটি বইমেলায় তার হাতে বিশেষ সম্মান তুলে দেওয়া হয়। আর এই অনুষ্ঠানের বিশেষ উদ্যোক্তা ছিলেন কেরল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির স্পীকার এ.এম. শামশীর। এই অনন্য সম্মান পেয়ে কেরলের বামপন্থী সরকারকে যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তসলিমা। সেই সঙ্গে করেছেন স্মৃতিচারণ।
একটি ফেসবুক পোস্টে চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি নিশানা করেছেন বাংলার তৎকালীন বামপন্থী সরকারকে। যে বামপন্থী সরকার তসলিমাকে বাংলায় জায়গা দেয়নি। শুধু তাই নয় তার লেখা বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বিশেষ করে তসলিমার লেখা ‘লজ্জা’ উপন্যাসটি প্রকাশ পাওয়ার পরেই বিতর্ক শুরু হয় বাংলার রাজনৈতিক মহলে। তৎকালীন বাম সরকার সেই বই নিষিদ্ধ করে এবং তাকে বাংলা থেকেও গলা ধাক্কা খেতে হয়েছিল।
তসলিমার পাশে দক্ষিণ ভারতের বামপন্থী মুসলিমরা!
এই বিষয় নিয়ে তসলিমা বার বার সরব হয়েছেন। যেমনটা তিনি সরব হয়েছিল মৌলবাদীদের শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবাদী লেখা লিখেই বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন তসলিমা। কেউ কেউ তার উপন্যাসকে অশ্লীল বলে দাগিয়ে দিয়েছে আবার বিশেষ কোনো সম্প্রদায় তার লেখা নিয়ে ধর্মের খেলায় মেতেছে এবং দিনের পর তাকে হুমকি দিয়েছে। এই খারাপ সময়ে তসলিমার বিরোধিতা করে বাংলার বামপন্থী সরকার।
সেই সময় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনিও কখনই তসলিমাকে সাপোর্ট করেননি এবং তাকে বাংলা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন, এমনটাই বার বার বলেছেন তসলিমা। বিভিন্ন জায়গায়, সংবাদমাধ্যমে বা সোশ্যাল প্লাটফর্মে বাংলার বামেদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। বাংলায় বা ভারতের বুকে কোনও রাজনৈতিক ঘটনা ঘটলে তাতেও নিজের মত প্রকাশ করে বামেদের কটাক্ষ করেছেন তিনি।
কিন্তু কেরলের সরকারের তরফ থেকে এই সম্মান পেয়ে তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজ্যের সরকারকে। সেই সঙ্গে বলেছেন বাংলার বামপন্থীদের থেকে কেরলের বামপন্থীরা শতগুনে ভাল। সেই রাজ্যে তসলিমার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সম্মান প্রদান সমস্ত ক্ষত্রেই তিনি সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এবং সবচয়ে বড় কথা হচ্ছে প্রধান উদ্যোক্তা এ এম শামশীর এর তরফ থেকে এই আমন্ত্রণ এবং তার হাত দিয়েই এই সম্মান পেয়ে তিনি বার বার কেরলের বাম সরকারের প্রশংসা করেছেন এবং সেই সঙ্গে বাংলার বামপন্থীদের জন্য ছুঁড়ে দিয়েছেন ক্ষোভের বিষ।




