
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মধ্যে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ফের চিঠি লিখেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ “ভিত্তিহীন” এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে SIR প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা চলছে।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) চিঠিতে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসআইআর প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের সময় এসআইআর প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই প্রক্রিয়াকে মজবুত রাখা অপরিহার্য। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসআইআর প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা হ্রাস পায়, তবে তা সাধারণ ভোটার ও নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হবে। এই চিঠির মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জ্ঞানেশ কুমারকে চতুর্থবারের মতো চিঠি পাঠিয়েছেন। এই চিঠিতে তিনি এসআইআর শুনানিতে ভোটারদের হয়রানি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে লিখেছেন, সম্প্রতি এসআইআর শুনানিতে ভোটারদের উপর অতিরিক্ত চাপ, নোটিস পাঠানো এবং প্রশাসনিক জটিলতা সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত বিরক্ত করছে। তিনি উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)–এই সকল ব্যক্তির হিয়ারিং নোটিস পাঠানো হয়েছে। মমতা চিঠিতে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
চিঠির শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ হাতে কলমে দুটি লাইন লিখেছেন, যা বিষয়টির গুরুত্ব ও তাদের ব্যক্তিগত অবস্থান প্রতিফলিত করছে। তিনি লিখেছেন, “যদিও আমি জানি, আপনি উত্তর কিংবা ব্যাখ্যা দেবেন না। তবু আপনাকে সমস্তটা জানানো আমার দায়িত্ব।” এই ব্যক্তিগত মন্তব্য প্রমাণ করছে যে, মুখ্যমন্ত্রী নীতি ও দায়িত্বের প্রতি কতটা জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি এটি রাজনৈতিক উত্তেজনায় সাধারণ মানুষের অবহিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যায়।









