
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ডোমিসাইল ও বার্থ সার্টিফিকেটের প্রসঙ্গে সরকারি নীতির বিভিন্ন জটিলতা ও ভুল প্রক্রিয়া তুলে ধরে নাগরিকদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, “আই প্যাককে লাগিয়ে ৬০ বছরের লোককে বার্থ সার্টিফিকেট দিতে চাইছেন। উনি এই নিয়মটা জানেন না। বার্থ সার্টিফিকেট এত বেশি বয়সে হয় না।” এই বক্তব্যে শুভেন্দু মূলত প্রশাসনের ভুল প্রয়োগ এবং নাগরিক সুবিধা উপেক্ষার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “উনি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দিতে চাইছেন। তাঁর আইনের বই পড়া উচিত। ১০ বছর না হলে সেই সার্টিফিকেট গ্রাহ্য নয়।” এটি স্পষ্ট করে যে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে আইনগত প্রক্রিয়া ও বয়সের সীমা মানা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি নথিপত্রে নিয়মবহির্ভূত বা আইনবিরুদ্ধ পদক্ষেপের ফলে নাগরিকদের স্বাভাবিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি মূলত এই পরিস্থিতি থেকে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে, ক্ষমতার অপব্যবহার জনগণের স্বার্থে হুমকি স্বরূপ।
শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও দাবি করেন, “আই প্যাকের তৈরি করা ফর্মুলাতে অবৈধ ভোটার, মৃত ভোটার, বাংলাদেশি অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় রাখার চেষ্টা চলছে।” এই মন্তব্যে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতার অভাবের দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করেছেন। নাগরিকদের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, তা না হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও ভোটারদের আস্থা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুর্নীতিগ্রস্ত জেলাশাসক সুমিত গুপ্তের নাম উল্লেখ করে বলেন, “জেলাশাসক সুমিত গুপ্তকে কলকাতা পৌরসভার কমিশনার বানিয়ে বরো ভিত্তিক বার্থ সার্টিফিকেট দিতে চান, তাহলে তো অবৈধ হবেই। নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার অত্যন্ত আপডেটেড।” এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত জনগণের অধিকারকে বিপন্ন করতে পারে। তিনি বিশেষভাবে নির্বাচনী সফটওয়্যার ও ডেটার সঠিক ব্যবহারকে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, যা ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের জালিয়াতি বা ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য অপরিহার্য।
শুভেন্দুর এই বক্তব্য কেবল প্রশাসনিক সমালোচনা নয়, বরং এটি নাগরিক অধিকার, আইন, ও স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি সরকারের কর্মকাণ্ডের নৈতিক দিক এবং আইন মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তার ভাষায় বোঝা যায়, সরকারি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তা কেবল নির্বাচনী অবস্থা নয়, সামাজিক ন্যায় ও নাগরিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
শুভেন্দুর এই সমালোচনা রাজনৈতিক বিতর্কের মাত্রা ছাড়িয়ে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দাঁড়ায়। তিনি শুধু সমস্যা তুলে ধরছেন না, বরং প্রশাসনকে আইন মেনে, স্বচ্ছভাবে এবং ন্যায্যভাবে কাজ করার আহ্বানও জানাচ্ছেন। নাগরিকদের ভোটাধিকার, বার্থ ও ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সমাজ ও নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।










