অভিষেকের চা বলয় সফরের পরেই ফের নির্বাচন কমিশনকে চিঠি শুভেন্দুর

suvendu-adhikari-letter-eci-sir-tea-belt-politics

শিলিগুড়ি: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Suvendu Adhikari) ঘিরে বিতর্কের আবহে ফের নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার তিনি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়ে দাবি জানান, চা বাগান ও সিঞ্চোনা বাগানের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নথিকে যেন ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে বৈধ পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মন্তব্য করেছেন যে অভিষেকের উত্তরবঙ্গ সফরে প্রমাদ গুনছে বিজেপি এবং এখন ভোটের আগে চা কর্মচারীদের জন্য ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন শুভেন্দু এবং বঙ্গ বিজেপি।

   

বঙ্গ নিবার্চনের আগে ‘ভূতুড়ে ভোটা’র নিয়ে যোগী রাজ্যে প্রশ্নের মুখে BJP!

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার চা বাগান শ্রমিক, বনবাসী ও প্ল্যান্টেশন কর্মীদের একটি বড় অংশ এখনও সরকারি নথির অভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সমস্যার মুখে পড়ছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাজ করলেও তাঁদের অনেকের কাছেই আধুনিক সরকারি পরিচয়পত্র নেই।

চিঠিতে শুভেন্দু উল্লেখ করেছেন, ঔপনিবেশিক আমল থেকে চা বাগান ও সিঞ্চোনা বাগানের কর্মসংস্থান রেকর্ড শ্রম দফতর ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাসযোগ্য নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ২০০২ সালের আগের এই রেকর্ডগুলি শ্রমিকদের পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। তাঁর প্রশ্ন, যখন এই নথি শ্রম ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে বৈধ, তখন ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে কেন তা অগ্রাহ্য করা হবে?

বিরোধী দলনেতা আরও জানান, এর আগেও দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO WB) এই বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। চিঠিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিবর্তে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, যাতে অযোগ্য ভোটারদের রক্ষা করা যায়। এতে প্রকৃত প্রান্তিক মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

এছাড়াও তিনি বনাধিকার আইন, ২০০৬ (Forest Rights Act)-এর বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে এই আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় বনবাসী জনগোষ্ঠী আজও জমি ও নাগরিক অধিকারের স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চিঠির মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছেন, তেমনই উত্তরবঙ্গের চা বাগান অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই চিঠির বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

নির্বাচন কমিশন এই দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং চা বাগান ও সিঞ্চোনা বাগানের কর্মসংস্থান নথিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। কারণ এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে উত্তরবঙ্গের লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক ভোটারের ভবিষ্যতের উপর।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন