
কলকাতা: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আইনি পথে হাঁটলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক ও বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। নিজের নাম জড়িয়ে পড়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে মেসিভক্ত এক ফ্যান ক্লাব কর্তার বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে মানহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে বিপুল উন্মাদনা তৈরি হয়। কিন্তু নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির অভিযোগে বহু দর্শক মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্টেডিয়ামের একাধিক অংশে চেয়ার ভাঙচুর, বোতল ছোড়াছুড়ি ও বিশৃঙ্খলার দৃশ্য সামনে আসে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এই ঘটনার পরই সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম টেনে এনে মন্তব্য করেন আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের প্রধান উত্তম সাহা। তাঁর দাবি ছিল, মেসির ভারত সফরের নেপথ্যে সৌরভের ভূমিকা রয়েছে এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাকে আড়াল করা হয়েছে। এই মন্তব্যগুলি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং তার জেরে সৌরভের বিরুদ্ধে জনরোষ ও কুৎসার পরিবেশ তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে জমা দেওয়া অভিযোগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, উত্তম সাহার মন্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিদ্বেষপ্রসূত। এই মন্তব্যগুলির ফলে তাঁর সামাজিক সুনাম, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং মানসিক শান্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে। সৌরভের দাবি, তিনি কোনওভাবেই মেসির সফরের পরিকল্পনা, আয়োজন বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সৌরভ শুধুমাত্র সরকারি অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মাঠে উপস্থিত থাকলেও দর্শকদের বোতলবৃষ্টি ও অশান্ত পরিস্থিতির কারণে তিনি বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে পারেননি। তা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে দোষী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আইনি পদক্ষেপ হিসেবে উত্তম সাহার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিস। সৌরভের আইনজীবীদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও আঘাত করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিযুক্ত উত্তম সাহা একজন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত। ফলে গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের দিকেও গড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। যুবভারতী কাণ্ডে প্রকৃত দায়িত্ব কার, তা নিয়ে তদন্ত চললেও সৌরভের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন।
এদিকে সৌরভের অভিযোগ দায়েরের পর এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি। তবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যেহেতু বাংলা তথা ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট ক্রীড়াব্যক্তিত্ব, তাই এই মামলায় আগামী দিনে পুলিশি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার হতে পারে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।










