সরস্বতী পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। (Vegetable prices)পড়ুয়াদের ঘরে ঘরে বই-খাতা সাজানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে বাজারেও। পুজোর দিন ভোগ রান্না থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন সবকিছুর কেন্দ্রেই থাকে সবজি বাজার। তাই পুজোর আগে সবজির দামের ওঠানামা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে। চলতি সপ্তাহে শহর ও জেলার বাজার ঘুরে যা ছবি উঠে আসছে, তাতে কিছুটা স্বস্তি যেমন আছে, তেমনই কিছু সবজির দামে চিন্তার ভাঁজও রয়ে গেছে।
সবচেয়ে স্বস্তির খবর টমেটো নিয়ে। কয়েক মাস আগেও যে টমেটো কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল, সেই টমেটোর দাম এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বাজারে মান ও জাতভেদে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি প্রায় ২০ টাকা থেকে ৫৭ টাকার মধ্যে। ভোগ রান্নার জন্য মাঝারি মানের টমেটো সহজেই মিলছে ২৫–৩০ টাকার মধ্যেই।
পড়শি দেশে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে জঙ্গি ঘাঁটি বানাতে সাহায্য করছে সেনা
পেঁয়াজের বাজারও আপাতত স্থিতিশীল। দেশি ও বহিরাগত পেঁয়াজ মিলিয়ে কেজি প্রতি দাম রয়েছে আনুমানিক ২০ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে। খুচরো বাজারে সামান্য তারতম্য থাকলেও বড়সড় মূল্যবৃদ্ধির কোনও আশঙ্কা এখনই দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।
আলু, যা বাঙালির রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেটিও তুলনামূলকভাবে সস্তা। পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি আলুর দাম ঘোরাফেরা করছে ২০ টাকার আশেপাশে। খুচরো বাজারে কিছুটা বেশি হলেও এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে আলু।
ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাজারে অবশ্য মিশ্র ছবি। ফুলকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৩৬ টাকায়, আর কেজি হিসেবে কিনলে দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬০ টাকা। অন্যদিকে বাঁধাকপি প্রতি পিস ২৬ টাকা বা কেজি প্রতি প্রায় ৫০ টাকায় মিলছে। পুজোর আগে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম খুব একটা লাফিয়ে বাড়েনি।
গাজরের বাজারে তুলনামূলকভাবে কিছুটা চাপ রয়েছে। আধা কেজি গাজরের দাম ৩৩ থেকে ৪৬ টাকার মধ্যে, অর্থাৎ কেজি প্রতি প্রায় ৬০ টাকা। শীতকালীন সবজি হওয়ায় চাহিদা বাড়ছে, আর তার প্রভাব পড়ছে দামে। শসা এখনও মোটামুটি স্বস্তিদায়ক জায়গায় রয়েছে। কেজি প্রতি ২২ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে শসা বিক্রি হচ্ছে। সালাদ ও উপবাসের দিনে চাহিদা বাড়লেও এখনও দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে।
সবচেয়ে বেশি চমক দিচ্ছে ঢেঁড়সের দাম। আধা কেজি ঢেঁড়স কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩৮ টাকা, আর কেজি হিসেবে দাম পৌঁছচ্ছে প্রায় ১১৯ টাকায়। ব্যবসায়ীদের মতে, ঢেঁড়সের জোগান কম থাকায় এই দাম আপাতত কমার সম্ভাবনা কম।
সব মিলিয়ে সরস্বতী পুজোর আগে সবজি বাজারে পুরোপুরি অগ্নিমূল্য নয়, আবার একেবারে সস্তাও নয়। বেশিরভাগ সবজিই মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেই থাকলেও ঢেঁড়স ও গাজরের মতো কিছু সবজি বাজেটে চাপ ফেলছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজোর ঠিক আগে চাহিদা আরও বাড়লে কিছু সবজির দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি হতে পারে। তাই ভোগের বাজার করতে চাইলে আগেভাগেই পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
