যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির (Governor on Lionel Messi Issue) অনুষ্ঠান ঘিরে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে ক্রমশ গভীর হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট। ঘটনার পরপরই রাজ্য সরকারের তরফে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একাধিক পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকেও শোকজ করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর কাছ থেকে লিখিত জবাব তলব করেছে নবান্ন। এই ঘটনায় প্রশাসনের শীর্ষস্তর পর্যন্ত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠেছে।
যুবভারতী কাণ্ডে এবার কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মেসির অনুষ্ঠানে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজ্যপালের বক্তব্য, ভিভিআইপি ও ভিআইপিরা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে মেসির কাছে পৌঁছে যান, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ঘটনায় রাজ্যের দুই মন্ত্রী—অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর নাম উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়। বিরোধীরা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে এবং শাসকদলের মধ্যেও অস্বস্তি বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বিতর্কের মুখে পড়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখে জানান, “নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে অব্যাহতি চাইছি।” তাঁর এই পদক্ষেপকে অনেকেই নৈতিক দায়িত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফার ইচ্ছাকে মর্যাদা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গৃহীত হয়নি। সূত্রের খবর, তদন্ত চলাকালীন ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব নিজেই হাতে রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে, যুবভারতী কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এত বড় ফাঁক কীভাবে রইল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ডিজি রাজীব কুমারের জবাবের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ। রাজ্য সরকারের এই কঠোর অবস্থান থেকে স্পষ্ট, দোষী যেই হোক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না প্রশাসন।
সব মিলিয়ে যুবভারতী কাণ্ড এখন শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং প্রশাসনিক দায়িত্ব, রাজনৈতিক নৈতিকতা এবং স্বচ্ছতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। রাজ্যপাল, রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই বার্তাই স্পষ্ট—জনস্বার্থে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
