
রাজ্যের শাসকদলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর অফিসে টানা ১২ ঘণ্টা ধরে চলল (Protest Against ED) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তল্লাশি। বিধাননগরের অফিস পাড়ায় যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযান চালাচ্ছিল, তখন অফিসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র কয়েকজন কর্মী। তবে, দিনশেষে যখন ইডি অফিস থেকে বেরিয়ে যায়, তখন পুরো অফিস চত্বরের পরিস্থিতি ছিল একেবারে অন্যরকম। (Protest Against ED) অফিসের নিচে দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না—পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা এলাকায়।
ইডি-র অভিযান শুধু প্রশাসনিক তল্লাশি হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা দ্রুত রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে। এদিনের অভিযানে শুধু আইনগত দিকগুলোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, বরং রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এটি এক ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যাতে তাদের নির্বাচনী প্রচারের উপদেষ্টা সংস্থাকে টার্গেট করা হয়েছে। তৃণমূল নেতারা দাবি করেছেন, আইপ্যাক-এ তল্লাশি চালিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসিদ্ধি এবং নির্বাচনী কৌশল উন্মোচন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযানে অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে তদন্তের অজুহাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দেখানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানোর মাধ্যমে বিরোধীরা আমাদের নির্বাচনী কৌশল এবং ব্লু প্রিন্টের তথ্য হাতিয়ে নিতে চাইছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি।’’
ইডি-র তদন্ত কার্যক্রমের পর অফিস চত্বরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও পুলিশের মোতায়েনকে কেন্দ্র করে এক ভিন্ন চিত্র তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে এক তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটানো হয়? এছাড়াও, এই বিশাল বাহিনী মোতায়েনের মধ্য দিয়ে কিছুটা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইপ্যাক অফিসের আশেপাশে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি, বিশেষত যখন সেখানে খুব কম কর্মী উপস্থিত ছিলেন, তা আরও অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দেয়।
আইপ্যাক একটি নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে পরিচিত, যা বিভিন্ন রাজনীতিকদের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে পরামর্শ দেয়। তাদের কাজের মধ্যে ভোটগ্রহণের কৌশল, বিপণন, এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। এবারের অভিযান শুরু হয়েছে কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে, যদিও এর সাথে নির্বাচনী প্রচারের কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।
এদিকে, ইডি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের অভিযান সম্পূর্ণ আইনি এবং তদন্তের স্বার্থে করা হয়েছে। তারা বলছে, কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে আইপ্যাক বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই তল্লাশি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে বিরোধী দল তাদের নির্বাচনী কৌশল নষ্ট করতে চাচ্ছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের তদন্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের লক্ষ্যে করা হচ্ছে। রাজ্যের শাসকদলকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী কাজ করছে।’’ তৃণমূলের আরও অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা আইপ্যাককে টার্গেট করেছে, যা রাজ্যের জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা।



