Home West Bengal Kolkata City প্রাথমিক স্কুলেও গরমের ছুটি কমিয়ে দিল শিক্ষা দফতর

প্রাথমিক স্কুলেও গরমের ছুটি কমিয়ে দিল শিক্ষা দফতর

Bengal Board Makes Rabindranath Tagore’s Song Compulsory in School Prayers
Bengal Board Makes Rabindranath Tagore’s Song Compulsory in School Prayers

কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ফের বড় পরিবর্তনের ঘোষণা। মাধ্যমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলির পর এবার প্রাথমিক স্কুলগুলিতেও গরমের ছুটি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা দফতর (West Bengal primary school)। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রকাশিত ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর প্রাথমিক স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মাবকাশ থাকবে মাত্র ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত। অর্থাৎ মোট ছয় দিনের ছুটি।

Advertisements

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষক মহল, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ, প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের বয়স কম হওয়ায় গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে স্কুলে যাতায়াত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে।

   

এর আগে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল যে, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলিতেও গরমের ছুটি ছয় দিনেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে। ফলে সার্বিকভাবে গোটা শিক্ষাবর্ষে স্কুলগুলির মোট ছুটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক আবহাওয়া বারবার শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। একাধিক বছর দেখা গিয়েছে, নির্ধারিত গ্রীষ্মাবকাশ শুরুর অনেক আগেই দাবদাহের কারণে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে গরমের ছুটি অনেক সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত।

এই অতিরিক্ত ছুটির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘোষণা করেছেন বলেও জানাচ্ছেন শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, “হঠাৎ করে দীর্ঘ ছুটি পড়ায় পাঠ্যসূচি শেষ করতে সমস্যা হয়। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই আগাম ক্যালেন্ডারে গ্রীষ্মের ছুটি কমানো হয়েছে।”

তবে এই যুক্তিতে সবাই সন্তুষ্ট নন। বহু শিক্ষক ও অভিভাবকের মতে, মে মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা যখন ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছয়, তখন ছোট পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠানো কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়াও আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আবার তাপপ্রবাহ দেখা দিলে কি ফের হঠাৎ করে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে? সে ক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনার অভাব থেকেই যাবে বলেই মত তাঁদের। অনেকেই দাবি করছেন, ছুটি কমানোর পাশাপাশি স্কুলগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, ফ্যান ও তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকাঠামো নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি।

তবে ছুটির তালিকায় একটি স্বস্তির খবরও রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, পুজোর ছুটি টানা ২৫ দিনই বহাল থাকবে। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজো মিলিয়ে এই দীর্ঘ ছুটিতে কোনও কাটছাঁট করা হয়নি।

এক সময় রাজ্যের স্কুলগুলিতে বছরে গড়ে ৮০ দিন পর্যন্ত ছুটি থাকত। নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে আসছে। শিক্ষা দফতরের দাবি, শিক্ষার মান উন্নত করা এবং পাঠ্যসূচি সময়মতো শেষ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, বাস্তব পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ছুটির তালিকায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

Advertisements