কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার (Parno Mitra joins Trinamool)উত্তাপ ছড়াল টলিপাড়াকে ঘিরে। তারকা প্রার্থী কারা হতে পারেন, কোন রাজনৈতিক শিবিরে কে যাচ্ছেন এই জল্পনাই এখন বঙ্গ রাজনীতির বড় চর্চার বিষয়। সেই আবহেই সামনে এল বড় খবর। অভিনেত্রী পার্নো মিত্র, যিনি গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়েছিলেন, তিনি এবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলে এই খবর ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। সেই তালিকায় ছিলেন পার্নো মিত্রও। বরাহনগর কেন্দ্র থেকে গেরুয়া শিবিরের টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন তিনি। যদিও জয় পাননি, তবুও নির্বাচনের সময় তাঁকে ঘিরে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। ওই কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থী ছিলেন তাপস রায়, যিনি শেষ পর্যন্ত জয়ী হন।
বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন, কে ছিলেন অমৃত মণ্ডল?
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে বরাহনগর কেন্দ্রের দায়িত্ব এখন তৃণমূল বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। অন্যদিকে, পার্নো মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থানেও দেখা দিয়েছে স্পষ্ট বদল। বিজেপির অন্দরে নানা বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেই তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন এমনটাই রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। সংগঠনের ভেতরের কাজকর্ম, গুরুত্ব না পাওয়া এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ধীরে ধীরে বাড়ছিল।
এর মাঝেই গেরুয়া শিবিরের তরফে পার্নোকে ফের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রস্তাব আসতে পারে বলে জল্পনা চলছিল। কিন্তু সেই সব সম্ভাবনার ইতি টানল তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। খুব শিগগিরই তৃণমূল ভবনে তাঁর আনুষ্ঠানিক যোগদান নিয়ে কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন পার্নো মিত্র কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থী হবেন? নাকি আপাতত তিনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্য ভূমিকা পালন করবেন? কোন কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে, আদৌ তাঁকে ভোটের ময়দানে নামানো হবে কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। তবে টলিপাড়া এবং রাজনৈতিক মহল দু’দিকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই জনপ্রিয় মুখ ও সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের রাজনীতিতে জায়গা দিয়েছে। সেই দিক থেকে পার্নো মিত্রের যোগদান দলের জন্য কতটা রাজনৈতিক লাভজনক হয়, সেটাই এখন দেখার। একই সঙ্গে বিজেপির জন্য এটি যে এক বড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে যখন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তারকা মুখদের ঘিরে আলাদা করে কৌশল সাজানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পার্নো মিত্রের দলবদল শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং টলিপাড়া ও রাজনীতির সংযোগে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা তৃণমূল ভবনে পার্নোর বক্তব্য এবং তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা কী হয়, সেটাই ঠিক করে দেবে আগামী দিনের চর্চা।

