২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সোনা ও রুপোর দাম যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব ছিল। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশের বিভিন্ন বাজারে সোনা (Gold Price) এবং রুপোর দাম উচ্চমাত্রায় ওঠানামা করতে শুরু করে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর, ভারতীয় বাজারেও তা সরাসরি প্রভাব ফেলে। তবে, ডিসেম্বারের শেষ সপ্তাহে দাম কিছুটা কমতে শুরু করে, বছরের প্রথমেও সোনার দাম অনেকই বেরেছে। বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রথমদিকে, সোনা ও রুপোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হচ্ছে। একদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। অন্যদিকে, রুপোতেও কিছু সময় ধরে মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। এছাড়া, বিশেষ করে ভারতের বাজারে সোনা ও রুপোর মূল্যবৃদ্ধির পিছনে রয়েছে বাজেট সংক্রান্ত ঘোষণার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রার উপর চাহিদার ব্যাপকতা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সোনার দাম অনেকটাই বাড়ে, যা বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি করে। বিশেষ করে, পাকা সোনা বার (২৪ ক্যারাট) প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকায় পৌঁছায়। এটি সোনার ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব মূল্যবৃদ্ধি, যা কল্পনাতীত ছিল। আবার, পাকা সোনা বার (খুচরো) দামও প্রায় একই রকম, যা প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা ছিল। এই দামের মধ্যে থাকা পার্থক্য মূলত গয়না তৈরির জন্য খুচরো সোনার বিক্রির কারণে।
অন্যদিকে, হলমার্কযুক্ত গয়না সোনা (২২ ক্যারাট) ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৭০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম দামে পৌঁছায়। এটি সোনার গুণগত মানের একটি আঙ্গিক, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সোনা ব্যবহৃত হয়। এই দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক গ্রাহক কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েন এবং দাম কমার অপেক্ষায় থাকেন।
এদিকে, রুপোর দামও কম যায়নি। বিশেষ করে রুপোর দাম ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এক সময়ে প্রতি কেজি রুপোর দাম ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৩০০ টাকায় পৌঁছেছিল, যা একটি বিশাল বৃদ্ধি। রুপোতে এটি এমন একটি সময় ছিল, যেখানে এর দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। রুপো সাধারণত সোনার তুলনায় কম দামি হলেও, এটি গয়না শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, ফলে রুপোর দামে এই পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এতদিন ধরে, সোনা ও রুপো তাদের উচ্চমূল্যে থাকা সত্ত্বেও, চাহিদা তেমন কমেনি। সাধারণত, বছরের শেষ দিকে উপহার হিসেবে সোনা এবং রুপো কেনার প্রবণতা অনেক বেশি থাকে, এবং সেই কারণে এই দাম বৃদ্ধির পিছনে কিছুটা বাজারের চাহিদা এবং ক্রেতার আগ্রহের প্রভাব ছিল।
