
লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা সংসদের (Om Birla)ভিতরে ই-সিগারেট ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সাংসদদের কড়া সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই ঘটনার পুরো তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনা সংসদের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে যখন অভিযোগ উঠেছে একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার সাংসদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সূত্রপাত ডিসেম্বর মাসে। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর লোকসভায় প্রশ্নকালে স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের এক সাংসদ সংসদ কক্ষে বসে ই-সিগারেট (ভ্যাপিং) করছেন। তিনি বলেন, “দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, কিন্তু সংসদে কি এটা অনুমোদিত? তৃণমূল সাংসদরা কয়েকদিন ধরে এটা করছেন।” স্পিকার ওম বিরলা তাৎক্ষণিক জবাবে বলেন, এমন কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মকর সংক্রান্তিতেই ঠিকানা বদল! সাউথ ব্লক ছেড়ে ‘সেবা তীর্থে’ পাড়ি দিচ্ছেন মোদী
অনুরাগ ঠাকুর পরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।এরপর বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যাতে দেখা যায় তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ সংসদ কক্ষে বসে হাতের তালুতে লুকিয়ে ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন।
কীর্তি আজাদ একজন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার, যিনি ১৯৮০-এর দশকে ভারতের হয়ে খেলেছেন এবং পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। প্রথমে অভিযোগ অজ্ঞাত ছিল, কিন্তু ভিডিও প্রকাশের পর স্পষ্ট হয় যে, এই অভিযোগ তার বিরুদ্ধেই।
বিজেপি নেতারা বলছেন, “এমন অডাসিটি! নিয়ম-কানুনের প্রতি কোনো সম্মান নেই।”ই-সিগারেট ২০১৯ সালের আইন অনুযায়ী দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ এবং ব্যবহার সবকিছু নিষিদ্ধ। সংসদের নিয়মাবলীতেও ধূমপান বা এ ধরনের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ, যাতে হাউসের মর্যাদা বজায় থাকে।
‘স্পিকার ওম বিরলা সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রায় শেষের দিকে এবং যদি নিয়ম লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি একটি কমিটি গঠন করেছেন যারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। স্পিকার বলেন, “সংসদের শোভা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো সাংসদকেই এমন কাজের ছাড় দেওয়া যাবে না।”









