‘শিক্ষা নেই, অভিজ্ঞতা নেই, নীতি নেই’, ফের বিজেপিকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

“No Education, No Experience, No Principles: Chief Minister Hits Out at BJP Again
“No Education, No Experience, No Principles: Chief Minister Hits Out at BJP Again

গঙ্গাসাগরের সেতু শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ‌্যোপাধ‌্যায় (Mamata Banerjee) বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবারও কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির নীতি ও কর্মকাণ্ডের উপর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চয়ই SIR-এ নাম তুলতে চাই। কিন্তু এরকম গায়ের জোরে কেন! সময় নিয়ে দুই বছর ধরে চলুক না।” এই কথায় তিনি শুধু প্রকল্প নিয়ে নয়, মানুষের কষ্ট ও সামাজিক ন্যায়ের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, যে কোনো উদ্যোগ যদি মানুষের জীবন ও স্বাভাবিক পরিবেশকে উপেক্ষা করে পরিচালিত হয়, তবে তার ফল অপ্রত্যাশিত এবং ক্ষতিকর হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “এভাবে ৮৫ বছরের মা, গর্ভবতী মহিলাকে শুনানিতে ডাকছেন কেন?” এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজন আছে। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র দুই মাসে প্রায় ৭০ জন মানুষ মারা গিয়েছে। অনেকেই আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছেন, আবার কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তোমাদের হৃদয় কাঁদে না?” – যা শুধু একটি প্রশ্ন নয়, বরং নৈতিক দায়বোধের আহ্বানও বটে। উল্লেখযোগ্য হলো, মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সমাজের বিশেষ দুর্বল অংশের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিয়ের পর অনেক মেয়ের পদবি পরিবর্তন হয়, সেটা গর্ভবতীরা বোঝে না।” এই বক্তব্যে বোঝানো হয়েছে যে প্রশাসন ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সামাজিক বাস্তবতা ও নারীর বাস্তব জীবনের প্রভাবকে উপেক্ষা করা হয়। এমন অবস্থায় মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলার মতো অবহেলা করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনৈতিক।

   

তিনি এক্ষেত্রে নামকরণ ও আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “সিনহাকে সিংহ লেখা দিলে নাম কেটে দিচ্ছে।” এই সাধারণ অথচ প্রতীকী উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেখাতে চেয়েছেন, যে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ভুল শুধরানো বা ন্যায়ের অভাব কতটা সহজে মানুষের জীবনে বিশৃঙ্খলা ও অবিচার সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, “তোমাদের অন্যায়, অনাচার সবাই দেখছে। যতই চেষ্টা করুক না কেন বিজেপি, মিলবে না জিলিপি।” অর্থাৎ রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রভাবের মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো বা বাধ্য করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে, কারণ সত্য ও ন্যায়ের বিচার শেষ পর্যন্ত জনগণের হাতে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল একটি সমালোচনা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক এবং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে ক্ষমতার প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক দিক ও নৈতিকতা অগ্রাধিকার পেতে হবে। সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অধিকারকে সমানভাবে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর বক্তব্যে অন্যান্যের মতোই সমাজের দুর্বল, বয়স্ক ও গর্ভবতী মানুষের প্রতি যত্ন ও সহমর্মিতার আহ্বান করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন যে, “যতই চেষ্টা করুক না কেন বিজেপি, মিলবে না জিলিপি।” এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক ধমক নয়, বরং মানুষের শক্তি, সংহতি এবং ন্যায়ের জয়কে তুলে ধরার এক শক্তিশালী বার্তা। এই বক্তৃতা থেকে বোঝা যায় যে, উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মানুষের অধিকার, নৈতিক দায়বোধ ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তা অগত্যা ব্যর্থ হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের মাত্র একটি অংশ হলেও, তার বার্তাটি অনেক গভীর এবং বিস্তৃত। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পের প্রভাব শুধু অবকাঠামোগত নয়, বরং মানবিক ও সামাজিক দিক থেকেও বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারের নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহমর্মিতা, ন্যায্যতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অগ্রাধিকার পেলে তবেই প্রকল্প সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণে পরিণত হতে পারে।

 

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন