ভোটের আগেই দল ছাড়লেন তৃণমূল সাংসদ

mp-mausam-benazir-noor-quits-party-returns-congress

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে (MP Mausam)। তার আগেই মালদহের রাজনীতিতে বড়সড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার দিল্লির কংগ্রেস সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান পর্ব সম্পন্ন করেন তিনি। এর ফলে বহুদিন পর গণিখান চৌধুরীর পরিবার ফের একজোট হয়ে কংগ্রেসের পতাকা ধরল—যা মালদহের রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, মাত্র তিন দিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মৌসমকে মালদহের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি পুরনো দলে ফিরে গেলেন। যোগদান পর্বে মৌসম স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং সোমবার রাজ্যসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেবেন।

   

কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মৌসম বলেন, “কংগ্রেসকে ধন্যবাদ জানাই আমায় গ্রহণ করার জন্য। আমরা কংগ্রেস পরিবার। কয়েক বছর তৃণমূলে ছিলাম, অনেক সুযোগ পেয়েছি কাজ করার। কিন্তু পরিবারগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আবার একসঙ্গে কাজ করব। সেক্যুলারিজম, ডেভেলপমেন্ট ও পিস এটাই কংগ্রেসের মন্ত্র। যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই কাজ করব।”

দলত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ‘মোহভঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহার করতে নারাজ মৌসম। তাঁর বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মালদহের রাজনীতির বাস্তবতা।

২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন মৌসম বেনজির নূর। ২০১৪ সালেও ‘হাত’ প্রতীকেই জয় পান তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই মালদহ উত্তর হাতছাড়া হয় মৌসমের। ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট ভাগ হয়ে জয় পান বিজেপির খগেন মুর্মু।

এরপর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত করে। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি। এমনকি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত টিকিট মেলেনি। ধীরে ধীরে তৃণমূলের অন্দরে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমতে থাকে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

আসলে মালদহের রাজনীতিতে গণিখান চৌধুরী আজ এক প্রকার ‘মিথ’। মৌসমের রাজনৈতিক পরিচিতিও মূলত এই পরিবারের উত্তরাধিকার সূত্রেই গড়ে উঠেছে। পরিবারের বাইরে বেরিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক জমি তৈরি করতে তিনি কতটা সফল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে গণিখান পরিবারের আর এক সদস্য ঈশা খান চৌধুরী কংগ্রেসের টিকিটে দক্ষিণ মালদহের সাংসদ। এই বাস্তবতাই সম্ভবত মৌসমের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।

মৌসমের ‘ঘর ওয়াপসি’-তে মালদহ কংগ্রেসে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দলের অন্দরে ‘মরা গাঙে বান’-এর প্রত্যাশা থাকলেও, তাঁর যোগদানে আদৌ সংগঠনের কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই দলত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের মতে, এতে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে একথা অস্বীকার করা যাবে না ছাব্বিশের আগে মৌসমের প্রত্যাবর্তন মালদহের রাজনীতিতে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করে দিয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন