
২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটি বড় ধাক্কা এল, যখন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর (Mausam Benazir Noor) তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরেই মালদার বৈষ্ণবনগর এলাকায় কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসে ফিরলেও, মৌসমের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের ভিতরে এক নতুন রাজনৈতিক উত্থান তৈরি করেছে।
মৌসম বেনজির নুর, যিনি উত্তর মালদার সাংসদ, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি একদিকে দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করেছেন, অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক পরিচিতিও বাড়িয়েছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার জয় অনেকের জন্যই রাজনৈতিক চমক ছিল। কিন্তু এবার, ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মৌসমের (Mausam Benazir Noor) কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, রাজ্য নির্বাচনের আগে তিনি যে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেটি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে নির্ধারণ করবে। তবে কংগ্রেসে ফেরার পর, মালদার বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের ভিতরে বড়সড় ভাঙন ধরেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
মৌসম বেনজির নুর(Mausam Benazir Noor) কংগ্রেসে ফিরতেই তার সমর্থকরা এবং কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা, যারা দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিতে শুরু করেছেন। বৈষ্ণবনগর এলাকার কংগ্রেসের মধ্যে এক বড় ভাঙন ধরেছে। প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মতিউর রহমান তৃণমূলে যোগদান করেছেন। বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকারের উপস্থিতিতে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এদিন, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন ৭০০ জন কর্মীও, যা কংগ্রেসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি মালদার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে বদলে দেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
মৌসম বেনজির নুরের (Mausam Benazir Noor) কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার ঘটনাটি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তিনি শুধু এক রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একটি বড় নির্বাচনী অঞ্চলের সাংসদ, এবং তার এই পদক্ষেপের ফলে কংগ্রেসের ভিতরে এক নতুন শক্তির উত্থান হতে পারে। এছাড়াও, কংগ্রেসের মধ্যে এমন ভাঙন দেখা দেওয়াও তাদের সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যখন একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস শক্তিশালী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের মধ্যে যদি এ ধরনের ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে রাজ্যের নির্বাচনী চিত্রে তা প্রভাব ফেলবে।






