মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় বিডিও অফিসে তাণ্ডবের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কড়া অবস্থান নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিকাল ৫টার মধ্যে জেলাশাসককে এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং তারপর সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট কমিশনকে জানাতে হবে। কমিশনের এই সময়বদ্ধ নির্দেশ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফারাক্কার বিডিও অফিসে কার্যত তাণ্ডব চালানো হয়। অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়, নথিপত্র এলোমেলো করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার সময় এক বন মাইক্রো অবজার্ভার আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অফিসে এমন হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশের উপর। এই ঘটনার পরেই নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, সরকারি দফতরে হিংসা বা বিশৃঙ্খলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অফিসে এমন ঘটনা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলেই মনে করছে কমিশন। সেই কারণেই দ্রুত এফআইআর এবং রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, “আইন আইনের পথেই চলবে।” তিনি দাবি করেন, তদন্ত হলে সত্য প্রকাশ্যে আসবে এবং তিনি আইনের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর কমেনি।
কমিশনের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। বিজেপি নেতা **রাহুল সিনহা** এই প্রসঙ্গে বলেন, “এটা কমিশনের একদম সঠিক কাজ। এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে রাজ্য সরকার কীভাবে এই ধরনের হিংসায় যুক্তদের মদত দিচ্ছে। সন্ত্রাসবাদী মানসিকতার এমএলএ-দের রক্ষা করা হচ্ছে।”
