Durga Puja: উৎসবের আনন্দে বিরিয়ানি যুদ্ধ! রসনায় নবাব ওয়াজেদ আলির হুঙ্কার

নিজাম, আমিনিয়া, আর্সালান, ম্যাকডোনাল্ডসের মতো দেশি বিদেশি বিরিয়ানি যোদ্ধাদের সাথে লড়াই করছেন খোদ নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ! বিশ্বের নিয়মে তিনি তো কবেই সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে চিরনিদ্রায়। তবে তাঁর রসনার বিরিয়ানি আছে। উৎসবের আবহে সেও হাজির।

অযোধ্যার গদিচ্যুত নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ লখনউ ছেড়ে আমৃত্যু থেকে গিয়েছিলেন কলকাতার মেটিয়াবুরুজে৷ মেটিয়াবুরুজকেই বানিয়ে তুলেছিলেন ‘ছোটা লাখনৌ ৷ লাখনৌর নবাবি খানার স্বাদ নবাবেরই বংশধর পৌঁছে দিচ্ছেন কলকাতার মানুষের কাছে৷

   

শ্রীমতি মানজিলাত ফাতেমা একজন স্বনামধন্য শেফ এবং আমাদের দেশের মোগলাই এর জগতে একজন দিকপাল মানুষ। মানজিলাত ফাতেমাই যেন একটা ব্র্যান্ড। তিনি লাখনৌ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহের চতুর্থ বংশধর। কলকাতার রুবি মোড়েই রয়েছে মানজিলাত ফাতেমার রেস্তোরাঁ “MANZILAT’S’। নিজের পূর্বপুরুষদের কথা ভেবেই তিনি এই রেস্তোরাঁ শুরু করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কলকাতায় আওয়াধি খাবারের শুরুই হয়েছিল নবাব ওয়াজেদ আলী শাহের হাত ধরে। তিনি চান কলকাতার মানুষ জানুক কিভাবে এই খাবারটি কলকাতায় এসেছে। পাশাপাশি তিনি আফসোস করে বলেন, ওয়াজেদ আলী শাহ কলকাতায় এসেছেন। ৩০-৩২ বছর ছিলেন। মেটিয়াবুরুজে ওনার সমাধি আছে। কিন্তু কেউ জানে না। এখান থেকে মানুষ লাখনৌ যাবে আওয়াধি খাবার খেতে কিন্তু কলকাতা শহরে লাখনৌ এর বাদশা ওনার সমাধি আছে, ইমামবারা আছে কেউ যায় না দেখতে।

মানজিলাত ফাতেমা জানান তিনি আলাদা ভাবে কোনো রান্নাই তিনি শেখেন নি।রয়্যাল ফ্যামিলিতে যে খাবারগুলো খেয়ে বড় হয়েছেন সেই খাবার বানাচ্ছেন সকলের জন্য। নিজের হাতে রান্না করেন মানজিলাত ফাতেমা। তাঁর দাবি কোলকাতার মনুষের সঙ্গে তাঁর অন্য সম্পর্ক। তাই তিনি তাদের নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতে ভালোবাসেন। সুতরাং বলা যেতেই পারে মনজিলাত ম্যাডামের এই রেস্তোরাঁতে গেলে এক্কেবারে আসল জিভে জল আনা নবাবী খাবার পাবেন।

বয়স বাড়ছে। পরবর্তীসময় হয়ত সম্ভব হবে না রোজ রোজ এতো রান্না করার। তাই ওয়াজেদ আলী শাহের এই বংশধর ঠিক করেছেন বই লিখবেন। যার মাধ্যমে রয়্যাল ফ্যামিলির সমস্ত রেসিপি সকলের জন্যে তুলে ধরবেন। জানাবেন নবাব ওয়াজেদ আলী শাহের ইতিহাস।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন