২০২১ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’।স্লোগানটি একদিকে যেমন তৃণমূলের (Mamata Banerjee) ভোটব্যাংককে শক্তিশালী করেছিল, তেমনি অন্যদিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও পাঠিয়েছিল। নির্বাচনের সময় তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য ‘খেলা হবে’ স্লোগান নিয়ে গানও তৈরি করেছিলেন, যা সারা রাজ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা যখন রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচার করছিলেন, তখন এই স্লোগান তাদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ফলস্বরূপ, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২০০টিরও বেশি আসন পেয়ে এক রেকর্ড বিজয় অর্জন করে।
এবার, যখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে, তখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই ‘খেলা হবে’ স্লোগান কি আবারও রাজনীতির ময়দান কাঁপাতে পারবে? তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য ইতিমধ্যেই নিজের নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। গত মঙ্গলবার, বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় একটি জনসভায় তিনি নতুন স্লোগান প্রকাশ করে বলেন, “এবারকার খেলার নাম হবে ফাটাফাটি।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্লোগান দিয়ে এভাবেই ছাব্বিশের নির্বাচনের জন্য আগাম প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করলেন। বাঁকুড়ায় জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ জানে, আমরা কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়াই। এবার আমাদের স্লোগান হবে ‘ফাটাফাটি’। খেলা হবে, কিন্তু এবার একদম ফাটাফাটি হবে।” তাঁর এই স্লোগানে একদিকে যেমন জনগণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
মমতার স্লোগানটি যখন প্রকাশিত হয়, তখনই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ধরে নিতে শুরু করেন, এটি একদিকে নির্বাচনী যুদ্ধের প্রস্তুতি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। ‘ফাটাফাটি’ শব্দটির মাধ্যমে মমতা রাজ্যের মানুষের কাছে নতুন শক্তি এবং আন্দোলনের বার্তা দিতে চাইছেন, যা একদম ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করবে। ‘ফাটাফাটি’ এর মাধ্যমে মমতা দলের কর্মীদের উৎসাহিত করতে চাইছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করার ব্যাপারে দৃঢ়তার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, “এবার খেলা হবে না, এবার খেলা হবে ফাটাফাটি। সবাই জানে, তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে কাজ করে, কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।” তিনি আরও জানান, “বাংলার মানুষ জানে, আমরাই তাদের প্রকৃত বন্ধু। রাজ্যের উন্নয়ন আমরা অব্যাহত রাখবো। আর বিরোধীরা শুধু তাতেই গালাগালি করতে থাকবে।”
