কোচবিহার: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চড়ছে তাপমাত্রা (Mamata Banerjee on SIR)। মঙ্গলবার কোচবিহারের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করলেন ফেব্রুয়ারিতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তার ঠিক পরেই হুড়োহুড়ি করে ঘোষণা করা হবে বিধানসভা ভোটের দিন। উদ্দেশ্য একটাই—যাতে কেউ আইনি ভাবে নতুন ভোটার তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে।
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ ও সন্দেহ। তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে SIR-এর ফাইনাল রোল প্রকাশ হলেই সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন ঘোষণা করবে। যাতে কেউ আদালতে যেতে না পারে। যাতে বিতর্ক না ওঠে, যাতে কোনও ভুল ধরা না পড়ে। পুরো নির্বাচনটাই হবে ওই নতুন তালিকার ভিত্তিতে।”
ভারতের সম্ভাব্য একাদশে ‘বিরাট’ চমক! এই অ্যাপে ফ্রিতে দেখুন ম্যাচ
তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে চলছে “পরিকল্পিত আতঙ্ক” তৈরির খেলা। মমতার কথায়, “৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া SIR মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে। বহু মানুষ ভাবছেন, তাদের নাম হঠাৎ করেই বাদ পড়ে যেতে পারে। এটা কি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ, নাকি মানুষের মনে ভয় দেখানোর অপচেষ্টা?”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও কঠোর ভাষায় বলেন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেন প্রতিটি নাগরিককে আবার নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হচ্ছে। তাঁর ক্ষোভ, “এখন আমাদের নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে? এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে! যাদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানে বাস করছে, তারাও আজ প্রশ্নের মুখে?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগের তীর ছুড়লেন বিজেপির দিকে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার “অরাজক ও স্বৈরাচারী শাসন” চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “বিজেপি যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তবে আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য—সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। এটাই ওদের লক্ষ্য।”
এছাড়াও তিনি দাবি করেন রাজ্য সরকার SIR আটকে দিলে কেন্দ্র সুযোগ পেয়ে যেত পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার। মমতার কথায়, “ওরা অপেক্ষা করছিল। যদি আমরা SIR থামাতাম, সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্টস রুল বসিয়ে দিতো বাংলায়।” রাজ্যের প্রতি “বিভাজনমূলক ও চাপ সৃষ্টি” করার রাজনীতির অভিযোগও আনেন তিনি।
জনসভায় তাঁর বক্তব্যে একদিকে ছিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রতি আশ্বাস রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেন কোনওভাবেই মানুষের ভোটাধিকার খর্ব না হয়। তিনি বলেন, “মানুষের নাম যেন বিনা কারণে বাদ না যায়, আমরা সে বিষয়ে সতর্ক আছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই বক্তব্য শুধু প্রশাসনিক উদ্বেগ নয়; ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশলও বটে। SIR নিয়ে বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে, আর মমতার এই বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও ইন্ধন জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়—SIR কি সত্যিই পুনর্বিবেচনার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, নাকি নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকাকে বদলে দেওয়ার জন্য একটি “পলিটিক্যাল টুল”? আর সেই প্রশ্নের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে—ECI কী বলে, এবং SIR শেষ হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে সত্যিই কি বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়। মানুষের মনে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আগামী কয়েক মাসে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেই।
