পালানোর জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন আনতে চাইছেন মমতা? বাড়ছে রহস্য

mamata-banerjee-ed-raid-ipac-pratik-jain-controversy

লক্ষ্মীবারের দুপুরে মহানগরে চাঞ্চল্য (Mamata Banerjee)। আই প্যাকের অফিস এবং মালিক প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক যুদ্ধ। কয়লা পাচারের তদন্ত করতে ইডি প্রতীক জৈনের বাড়িতে গেলে সেখানে পৌঁছে যান মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং কিছু ফাইল ইডির কাছ থেকে কেড়ে নেন। যা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা ও হয়েছে।

বাম নেতা এবং বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তার মন্তব্যে বলেছেন “মমতার খেলা শেষ। এখন ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে বলে মমতা পালিয়ে বাঁচতে চাইছেন। তাই তিনি রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছেন রাজ্যে।” তিনি আরও বলেছেন যে মমতা দাবি করেছেন তার ফাইল ছিল প্রতীক জৈনের বাড়িতে। তবে কি কয়লা চুরি এবং মমতার ফাইল একই। তা ছাড়াও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন আই প্যাক দলের ইনচার্জ হয় কিভাবে।

   

বিশ্বকাপের আগে ধাক্কা ভারতের, বদলির তালিকায় এই তিন ক্রিকেটার

তাহলে কি তিনি নিজেই নিজের দলের লোকেদের উপর গুপ্তচর বৃত্তি করাচ্ছেন এই সংস্থাকে দিয়ে। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলায় এক হাওয়ালা অপারেটরের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত সংস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আই-প্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়ি সহ রাজ্যে ছয়টি এবং দিল্লিতে চারটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু হয়।

প্রতীক জৈন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, এবং আই-প্যাক বিভিন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের রণকৌশল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খবর ছড়াতে না ছড়াতেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি ইডি আধিকারিকদের সামনেই অবস্থান নেন এবং দাবি করেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নথি, হার্ড ডিস্ক এবং দলের রণকৌশল সম্পর্কিত তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা অমিত শাহের কাজ। আমার দলের সব নথি লুট করা হয়েছে” তিনি এও অভিযোগ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।কিন্তু ইডি-র পাল্টা অভিযোগ অনেক বেশি গুরুতর। সংস্থা জানিয়েছে, তল্লাশি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।

তাঁর উপস্থিতিতে সহযোগীরা এবং রাজ্য পুলিশের সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় ইডি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে। অন্যদিকে, প্রতীক জৈনের পরিবারও পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে ইডি-র বিরুদ্ধে, দাবি করেছে তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি গেছে। এই চাপানুতোরের মধ্যে রাজনৈতিক মহল উত্তাল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন