কলকাতা: নিউ টাউনের আকাশে নতুন এক স্বপ্নের জন্ম হল আজ (Mamata Banerjee)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত হয়ে ‘দুর্গাঙ্গন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, হিডকো কর্তারা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ইকোপার্কের কাছাকাছি, নিউ টাউন বাস টার্মিনাসের উল্টোদিকে অ্যাকশন এরিয়া-১-এ প্রায় ১৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে এই মেগা প্রকল্প।
মমতার এই উদ্যোগ বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার নতুন পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।দুর্গাঙ্গন শুধু একটা মন্দির নয়, এটা একটা পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স। দিঘার জগন্নাথ ধামের মতোই এখানে বছরভর দুর্গাপূজার আমেজ থাকবে। দেবী দুর্গার পৌরাণিক গাথা, বাংলার শিল্পকলা, থিম প্যান্ডেলের নমুনা, মিউজিয়াম, গ্যালারি সব মিলিয়ে এক ছাদের তলায়।
ইন্ডিয়ান অয়েলে শিক্ষানবিশ পদে নিয়োগ, এই তারিখের মধ্যে আবেদন করুন
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পাওয়া বাংলার দুর্গাপূজাকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই প্রকল্প। মমতা ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে এর ঘোষণা করেছিলেন। তারপর অগস্টে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, টেন্ডার সব শেষ করে আজ শিলান্যাস। প্রকল্পের খরচ প্রায় ২৬২ কোটি টাকা। হিডকোর তত্বাবধানে দু’বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা, অর্থাৎ ২০২৭-এর মধ্যে দুর্গাঙ্গন খুলে যাবে।
অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, “দুর্গাপূজো আমাদের গর্ব। এটা শুধু ধর্ম নয়, সংস্কৃতি, ঐক্যের প্রতীক। দুর্গাঙ্গনে এসে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা বছরভর এই উৎসবের স্বাদ পাবেন। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির যেমন পর্যটন বাড়িয়েছে, নিউ টাউনেও তেমনই হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে এটা ধর্মীয় প্রকল্প নয়, সাংস্কৃতিক। যদিও বিরোধীরা বলছেন সরকারি টাকায় মন্দির তৈরি ঠিক নয়।
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তো সরাসরি বলেছেন, “হিন্দু ভোটের জন্য মমতা এসব করছেন।” কিন্তু সরকারের দাবি, এটা পর্যটন উন্নয়নের অংশ।শিলান্যাসের আগে জমি নিয়ে কিছু বিতর্কও উঠেছিল। প্রথমে ইকোপার্কের উল্টোদিকে জমি চিহ্নিত হয়েছিল, কিন্তু পরে বাস টার্মিনাসের কাছে সরানো হয়।
কেউ কেউ বলছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের আপত্তির কারণে, কিন্তু হিডকো বলছে নতুন জমি বড় এবং যোগাযোগের দিক থেকে ভালো। যাই হোক, আজকের অনুষ্ঠানে সেই বিতর্কের ছায়া পড়েনি। মঞ্চে ভক্তিমূলক গান, পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ, ফুলের সাজ সব মিলিয়ে উৎসবের মেজাজ। হাজার হাজার মানুষ ফোন তুলে ছবি তুলছেন, অনেকে মায়ের জয়ধ্বনি দিচ্ছেন।
