জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট (Mamata Banerjee)বেঞ্চের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হল অস্বস্তিকর বিতর্ক। দেশের বিচার ব্যবস্থার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক ব্যক্তিত্বরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের একাধিক বিচারপতি, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাঝেই ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় সকল বিশিষ্ট অতিথিকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন একজন কেন্দ্রীয় আইন ও বিচারমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। প্রকাশ্যে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিজে উত্তরীয় পরালেন না।
৪০০টি দেশীয় যুদ্ধবিমান কিনবে ভারতীয় বিমান বাহিনী
বিষয়টি আরও চোখে পড়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে ইঙ্গিত করার পর বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এগিয়ে এসে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেরই প্রশ্ন কেন একজন বর্তমান বিচারপতিকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলা হল? যেখানে সাধারণত রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রধানরা এই ধরনের সম্মান জানান, সেখানে একজন বিচারপতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সম্মান দেওয়ার প্রয়োজন কেন পড়ল?
ঘটনার আরেকটি দিকও নজর কাড়ে। ওই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীকে পাশ কাটিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে প্রথমে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এটি কি নিছক প্রোটোকলগত ভুল, না কি সচেতনভাবে নেওয়া কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত?
সরকারি সূত্র বা মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের আবহেই এই ঘটনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যখন মুখ্যমন্ত্রী বারবার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, পারস্পরিক সম্মান ও সাংবিধানিক সৌজন্যের কথা বলে থাকেন।
বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক পদাধিকারীর প্রতি অসম্মান। তাঁদের প্রশ্ন যখন সকলকে সমানভাবে সম্মান জানানো হচ্ছিল, তখন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীকে আলাদা করে দেখা হল কেন? আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার প্রশ্নও এতে জড়িয়ে পড়েছে।
তৃণমূল শিবিরের একাংশ অবশ্য বলছে, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। ভিড় ও ব্যস্ততার মধ্যেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা সেই যুক্তিকে দুর্বল করছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
এই ঘটনা নিছক একটি মুহূর্তের অস্বস্তি নয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, এটি রাজনীতির সংস্কৃতি ও মনোভাবের প্রতিফলন। সম্মান চাওয়া যায় না সম্মান দিতে হয়, এমন বার্তাই যেন উঠে আসছে এই ঘটনায়। শেষ পর্যন্ত ওই মুহূর্তে মঞ্চে ঠিক কী কথোপকথন হয়েছিল, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী ও উপস্থিত ব্যক্তিরাই জানেন। কিন্তু জনসমক্ষে যে ছবি উঠে এসেছে, তা যে স্বস্তিকর নয় সেই বিষয়ে প্রায় সবাই একমত।
